জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির কাছ থেকে একটি ফোনকল পান। ফোনালাপে আঞ্চলিক সংঘাত থামানো এবং ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংকটের একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধানের পথ খোঁজার ওপর জোর দেওয়া হয়।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিক একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। শান্তি ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সাফাদি।
তিনি জানান, দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তার জন্য এমন একটি ভিত্তি প্রয়োজন যা এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের মূলনীতিগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান সাফাদি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা কোনো বাধা ছাড়াই নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা হ্রাসের যখন কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছে, ঠিক সেই সময়েই এই উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপটি অনুষ্ঠিত হলো। কৌশলগত এই জলপথটি পুনরায় চালুর শর্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয় ইরানের ওপর। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল এবং বিভিন্ন আরব রাষ্ট্রে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায়।
এরপর গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত করলেও পরবর্তীতে অমীমাংসিত বিরোধের কারণে তা ভেস্তে যায়।
ভেস্তে যাওয়া ওই আলোচনাগুলোতে মূলত কয়েকটি মূল বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্য সরবরাহের প্রধান কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণের শর্তাবলি।
