বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত: দাবি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত: দাবি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের

ইরানের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীর পূর্বে মার্কিন প্রযুক্তিতে তৈরি একটি এমকিউ-ওয়ান ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনি গার্ড কর্পস এক বিবৃতিতে এই ঘটনার কথা জানিয়েছে। তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই চালকহীন এই আকাশযানটি নামানো হয়।

ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, সিরিক উপকূলীয় অঞ্চলের ঠিক বিপরীত দিকের আকাশে এই ড্রোনটি প্রতিহত করা হয়। তবে সরকারি ঘোষণায় বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে ড্রোনটির চালক বা অপারেটর দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সামরিক এই শাখা জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনো এমকিউ-ওয়ান ড্রোন ভূপাতিত করার এটি চতুর্দশ ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত মিলার মাঝেই এই ড্রোন ধ্বংসের ঘটনা ঘটল।

গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানকে লক্ষ্য করে একটি সংক্ষিপ্ত ও তীব্র সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে ওয়াশিংটন সম্প্রতি পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশকে জানিয়েছে বলে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা তিনি নির্বাচনের পর বড় ধরনের কোনো হামলার পক্ষেই সায় দিচ্ছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে দেশ দুটির মধ্যকার শত্রুতা নতুন মাত্রা পায়। ওই সংঘাতে তেহরান গোটা অঞ্চলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

সংকট সমাধানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো গত জুনে বড় ধরনের ধাক্কা খায়। একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা সমঝোতা স্মারকটি শেষ পর্যন্ত প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাসহ বেশ কিছু বিষয়ে বিরোধের জেরে ভেস্তে যায়।

বিশ্বের তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পথ। সামরিক সংঘাত এবং এর জেরে এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এখনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করে চলেছে।

উপসাগরীয় airspace বা আকাশসীমা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অঞ্চলে তাদের প্রতিরক্ষা অবস্থান বজায় রেখেছে। তবে ভূপাতিত ড্রোনটি সম্পর্কে ওয়াশিংটন কিংবা এলাকার কোনো সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

banner
Link copied!