সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী মদিনা অঞ্চলের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার পর গত বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি আরব দেশ এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এছাড়া দেশটির পূর্বাঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় হুথিদের একটি ড্রোনও ভূপাতিত করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলাকে মুসলমানদের জন্য একটি স্পষ্ট উসকানি এবং সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবহেলা বলে অভিহিত করেছে। দোহা এই আক্রমণকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সৌদি আরবের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় রিয়াদের নেওয়া সব বৈধ পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার।
কুয়েতও সীমান্ত পেরিয়ে চলা এসব ধারাবাহিক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষা এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের জীবন বাঁচাতে রিয়াদ যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রতি নিজেদের অবিচল সমর্থনের কথা জানিয়েছে কুয়েত।
বাহরাইন ধর্মীয় স্থানগুলোর ওপর সম্ভাব্য বিশেষ বিপদের কথা তুলে ধরে জানিয়েছে, মদিনাকে নিশানা করার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ ও মসজিদে নববীর দর্শনার্থীদের জীবন বিপন্ন করা হয়েছে।
মানামা এই ঘটনাকে ইসলামিক পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদার ওপর আঘাত এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হানার সামিল বলে বর্ণনা করেছে।
বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে কঠোর ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
পুনরাবৃত্ত হুথি হামলা রোধ, ধর্মীয় পবিত্র স্থান ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধ এবং এর পেছনে থাকা অপরাধী ও মদদদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বিশ্ব সংস্থাকে তাগিদ দিয়েছে তারা।
জর্ডানও এই নিন্দা জানিয়েছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মদিনা অঞ্চলকে হামলার চেষ্টার ঘটনাকে মুসলিম সেন্টিমেন্টের প্রতি উসকানি বলে উল্লেখ করেছে।
আম্মান এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে, দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদের নেওয়া সব পদক্ষেপে সমর্থন জানিয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গত বৃহস্পতিবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার বিষয়টি জানায়। এদিকে হুথি আন্দোলন মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টার দাবি অস্বীকার করেছে।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হুথি মিলিশিয়ারা রাজধানী সানা ও অন্যান্য অঞ্চল দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদির নেতৃত্বাধীন আরব জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিরা সৌদি ভূখণ্ডে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোয় সেখানে লড়াই আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
