মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছেছেন। এই সফরকে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শুল্ক আরোপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনেই মূলত তার এই ভারত সফর।ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার কলকাতায় পৌঁছানোর পর তিনি মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত মানবিক সংস্থার সদরদফতর পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি রাজধানী নয়াদিল্লিতে যান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠকে মোদি ও রুবিও প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সফরের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে রুবিওর এই সফরের গুরুত্ব অনেক। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে দুই দেশ একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রুবিও সেই উদ্বেগ নিরসনের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন।
ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রুবিও। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের জ্বালানি খাতের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা লাঘব করতে ওয়াশিংটন নতুন অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দিয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্কের এই নতুন মোড় কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
