বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

নির্বাচন কমিশনে ‘আসল তৃণমূল’ দাবি বিদ্রোহীদের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২, ২০২৬, ১০:০০ পিএম

নির্বাচন কমিশনে ‘আসল তৃণমূল’ দাবি বিদ্রোহীদের

ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারসহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। ঋতব্রতের নেতৃত্বে বিদ্রোহী তৃণমূল সদস্যদের নিয়ে তৈরি দশজনের একটি প্রতিনিধি দল এদিন কমিশনের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিল।

কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান যে ২২ জুন তাদের দলের একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই অধিবেশনের পরেই তারা নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানান। আজ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে তাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং তারা তাদের দাবির সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে দ্রুত সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত অংশ এবং দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত কর্মী এবং সমর্থক এখনও নেত্রীর সঙ্গে রয়েছেন। কুণাল ঘোষ আরও বলেন যে যারা আজ নিজেদের আসল বলে দাবি করছেন, মাত্র দুই মাস আগে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তাদের দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই ছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে একজন ভাড়াটিয়া কীভাবে নিজেকে বাড়ির মালিক বলে দাবি করতে পারেন। সেই সঙ্গে তিনি তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা বিধায়কদের নতুন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন।

তবে এসব মন্তব্য নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন যে দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং জেলা পরিষদের সদস্যরা তাদের সঙ্গেই রয়েছেন। তিনি আরও জানান যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মোট বিধায়কের একটি বড় অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। এর ফলে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিদ্রোহী দলটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে একটি নতুন ত্রিশ সদস্যের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়কে দলের চেয়ারম্যান এবং আখরুজ্জামানকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দলবিরোধী কার্যকলাপ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফিরহাদ হাকিমসহ দলের আট শীর্ষ নেতা ও বিধায়কদের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে মূল দলটি এবং বিদ্রোহী শিবির— উভয় পক্ষই নির্বাচন কমিশনে নিজেদের দাবির সপক্ষে নথি জমা দিয়েছে। দলের জোড়া ঘাসফুল প্রতীক এবং তহবিলের মালিকানা কার হাতে থাকবে, তা এখন সম্পূর্ণভাবে ভারতের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠছে, এই দীর্ঘমেয়াদী কোন্দলের ফলে সাধারণ মানুষের সমর্থন কার দিকে থাকবে এবং নির্বাচন কমিশন কীভাবে এই জটিল আইনি পরিস্থিতির সুরাহা করবে।

banner
Link copied!