যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থা। চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের সদস্যরা আদালতের পরোয়ানা নিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করেন। মার্কিন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে তারা আদালতের অনুমোদন নিয়েই একটি পরোয়ানা কার্যকর করেছে, তবে তদন্তের সুনির্দিষ্ট বিবরণ বা ওমরের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই মুসলিম নারী আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে এই অভিযান চালানো হলো।
গণমাধ্যমে অপ্রকাশিত সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, ওমরের শৈশবে তার প্রয়াত বাবার মাধ্যমে জমা দেওয়া অভিবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্রের কথিত অসঙ্গতির সাথে এই তল্লাশির সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে ইলহান ওমর অতীতে অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। শিশু শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া ওমর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস অন্তর্ভুক্ত এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন, বিশেষ করে অভিবাসন নীতি নিয়ে তার সোচ্চার ভূমিকার কারণে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তা টম হোম্যান দাবি করেছিলেন যে ওমরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চলছে। সে সময় ওমর জানিয়েছিলেন যে নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে তার সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও অতীতে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়াই ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। একটি সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স প্রকাশ করেন যে হোয়াইট হাউসের তৎকালীন দায়িত্বশীলদের সাথে তিনি ওমরকে কীভাবে আইনি তদন্তের আওতায় আনা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
ওমরের কার্যালয় তখন এসব বক্তব্যকে সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং মানহানিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
সোমবারের তল্লাশি অভিযানের পর তাৎক্ষণিকভাবে ওমরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আগামী তিন নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার লড়াইয়ে নেমেছে রিপাবলিকানরা। রাজনৈতিক মেরুকরণের এই সময়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জেরে ওমর ও তার পরিবার একাধিকবার মৃত্যুহুমকির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণের সমালোচনার পর ওমর এবং অপর মুসলিম কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিবকে অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন।
গত মাসে মিনেসোটায় ওমরের ওপর আক্রমণকারী এক ব্যক্তিকে আদালত ১৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে।
মিনিয়াপলিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওমরের ওপর ক্ষতিকর তরল স্প্রে করার দায়ে ওই ব্যক্তিকে সাজা দেওয়া হয়, যখন তিনি মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বিলুপ্ত করার পক্ষে কথা বলছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসী এবং মুসলিম জনপ্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে রাজনৈতিক উত্তাপ তীব্র রূপ নিয়েছে। নতুন করে চালানো এই ফেডারেল তল্লাশি অভিযান কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ দখলের লড়াইয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
