যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুসি ওয়াইলসকে সরিয়ে তিনি এই দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহচর স্টিভেন মিলারকে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে সুসি ওয়াইলস পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং একচল্লিশ বছর বয়সী মিলারকে তাঁর অন্যতম বিশ্বস্ত উপদেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে সুসি ওয়াইলস দায়িত্বের সময়ে অসাধারণ কাজ করেছেন বলে তাঁর প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মিলার আগামী সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
ফ্লোরিডা সফরের আগে হোয়াইট হাউসের সাউথ পোর্টিকোর বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান যে তিনি মূলত কিছু পরিবর্তন আনতে চেয়েছেন এবং সুসি খুব ভালো কাজ করলেও এখন নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। মিলার শুরু থেকেই তাঁর সঙ্গে আছেন উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন যে তিনি সবকিছু বোঝেন, রাজনীতি বোঝেন এবং একজন চমৎকার মানুষ হিসেবে দারুণ ব্যবস্থাপক হবেন।
ইতিহাসে হোয়াইট হাউসের প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুসি ওয়াইলস এক বিবৃতিতে জানান যে ট্রাম্পের সেবা করা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় সম্মান। তিনি উল্লেখ করেন যে সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কর কমানো, অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং আমেরিকাকে প্রথমে রাখা—এই সব অর্জনের অংশ হতে পেরে তিনি গর্বিত। এই লক্ষ্যের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে বলে জানান তিনি।
সুসি ওয়াইলস ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণাকে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং প্রশাসনে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের চার বছরে চারজন চিফ অব স্টাফ বদল হলেও তাদের মধ্যে তিনি দীর্ঘতম সময় এই পদে টিকে ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর স্তন ক্যানসারের দীর্ঘ চিকিৎসা শেষ হওয়ার কয়েক মাস পরই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।
স্টিভেন মিলার মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির মূল রূপকার হিসেবে পরিচিত। তাঁর প্রথম মেয়াদের পরিবার থেকে শিশু বিচ্ছিন্ন করার নীতি কিংবা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তৈরিতে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। অতীতে ডেমোক্রেটিক পার্টির শতাধিক কংগ্রেস সদস্য তাঁর অপসারণ দাবি করে চিঠি দিয়েছিলেন এবং তাঁকে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
এই নিয়োগের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীদের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। হোয়াইট হাউসের অন্দরমহল নিয়ে লেখা বইয়ের লেখক ক্রিস হুইপল সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানান যে এই পদক্ষেপটি মূলত ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এক প্রকার যুদ্ধঘোষণা, কারণ মিলার কেবল পূর্ণ গতিতে এগোতেই জানেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রবীণ কৌশলবিদ ডেভিড অ্যাক্সেলড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন যে নতুন কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করার আশা করাদের জন্য এই নিয়োগ এক বালতি ঠাণ্ডা পানির মতো।
সমালোচকরা মনে করেন এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে নির্বাচনী পরাজয় থেকে সঠিক শিক্ষা নেননি ট্রাম্প। ভার্মন্টের ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান বেক্কা ব্যালিন্ট সামাজিক মাধ্যমে লেখেন যে মার্কিন জনগণ প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে, অথচ ট্রাম্প তার জবাবে প্রশাসনের সবচেয়ে ক্ষতিকর নীতিগুলোর স্থপতিকেই পদোন্নতি দিচ্ছেন।
হোয়াইট হাউসের সাবেক যোগাযোগ পরিচালক অ্যান্থনি স্কারামুচ্চিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল দেখে ট্রাম্প হয়তো ভেবেছেন মিলারকে পদোন্নতি দেওয়াই এর একমাত্র সমাধান। আগামী সোমবার থেকেই নতুন দায়িত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নেবেন মিলার।
