মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

পেনাল্টির আগে কি বিসমিল্লাহ বললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৩, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম

পেনাল্টির আগে কি বিসমিল্লাহ বললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আসরের নকআউট পর্বে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত নাটকীয় ও উত্তেজনাকর। টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পর্তুগাল ২-১ গোলে জয়লাভ করে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও এখন বেশি চর্চিত হচ্ছে পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি নেওয়ার আগের একটি মুহূর্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে যে, পেনাল্টি স্পটে বল বসানোর পর বলটি শট করার ঠিক আগ মুহূর্তে রোনালদো বিড়বিড় করে কিছু বলছেন। অনেক ভক্ত ও নেটিজেন দাবি করছেন, তিনি আরবি শব্দ বিসমিল্লাহ উচ্চারণ করেছেন।

ভাইরাল এই ভিডিওটি ঘিরে ফুটবল বিশ্বে চলছে জোর বিতর্ক। আরবি ভাষাভাষী এবং মুসলিম ভক্তরা দাবি করছেন যে, সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে খেলার সুবাদে রোনালদো ইসলামি সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়েছেন এবং হয়তো ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গা থেকে তিনি এই পবিত্র শব্দটি উচ্চারণ করেছেন। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে রোনালদোর সেই পেনাল্টি থেকে গোলটি পর্তুগালকে সমতায় ফিরিয়েছিল। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে নকআউট ম্যাচে প্রথম গোল। তবে পর্তুগিজ সমর্থক এবং কিছু স্থানীয় গণমাধ্যম এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বলছে যে, তিনি নিজের আত্মবিশ্বাসের জন্য নিজেকেই নিজে উৎসাহিত করছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেননি। ফলে বিতর্কটি থামার বদলে যেন আরও জোরালো হচ্ছে। আরব অঞ্চলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে এই ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং রোনালদোর প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ আরও বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, পর্তুগালের স্থানীয় মিডিয়া এবং সমর্থকদের একাংশ বিষয়টিকে নিছক একটি ভুল ব্যাখ্যা হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, উচ্চ চাপের ম্যাচে খেলোয়াড়রা যখন নিজেদের মনঃসংযোগ ঠিক করার চেষ্টা করেন, তখন তারা নিজেদের অজান্তেই অনেক কিছু বলে ফেলেন যা স্পষ্ট নয়।

ম্যাচটিতে পর্তুগালের জয় ছিল বেশ কষ্টের। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে গেলেও রোনালদোর পেনাল্টি পর্তুগালকে খেলায় ফেরায়। ম্যাচের একদম শেষ দিকে গঞ্জালো রামোসের গোলটি পর্তুগালকে জয়ী হতে সাহায্য করে। ম্যাচ শেষে রোবের্তো মার্টিনেজ তার দলের মানসিক শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা দুর্দান্ত কিছু সেভ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচের ফলাফল এবং জোসকো জিভারডিওলের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়া নিয়েও প্রচুর আলোচনা হচ্ছে।

মাঠের খেলা ছাপিয়ে রোনালদোর এই বিসমিল্লাহ প্রসঙ্গটি আজকের বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সউদি আরবে খেলার পর থেকেই তিনি সেখানকার সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতি সম্মান জানিয়ে এসেছেন। তার এই অভ্যাস যে তার ব্যক্তিগত জীবনে এবং খেলার মাঠেও প্রভাব ফেলেছে, তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো বলে অনেকে মনে করছেন। ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক, এই একটি মুহূর্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি স্মারক হিসেবে থেকে যাবে। বিতর্ক বা সত্য, যা-ই হোক না কেন, রোনালদো বরাবরই নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে জানেন এবং এবারের ঘটনাটি তার প্রমাণ।

banner
Link copied!