ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে নয়, বরং আগামী মার্চ মাসের নির্ধারিত নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি পাতরেস মোতেপে। রয়টার্স এবং স্কাই নিউজ জানিয়েছে যে বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের অংশবিশেষ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন মহলের তীব্র সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো যখন তার পদ রক্ষা নিয়ে কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই এই মন্তব্য সামনে এল। ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক সংস্থা বর্তমান সভাপতির ওপর থেকে অনাস্থা প্রকাশ করার পর বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ নেতৃত্বে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে এক যৌথ চিঠিতে জানানো হয়েছিল যে বর্তমান নেতৃত্বের ওপর থেকে আস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে। এর ধারাবাহিকতায় আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে পূর্বে দেওয়া তাদের সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর আগে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও সুইস এই শীর্ষ কর্মকর্তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তবে এর বিপরীতে কাতার, মরক্কো এবং মিশরসহ ছয়টি আরব ফেডারেশন গত বৃহস্পতিবার সকালে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সালাজবুর্গ শহরে উয়েফা সুপার কাপের আয়োজন উপলক্ষে উপস্থিত থেকে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্ডার সেফেরিনের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে পাতরেস মোতেপে স্কাই নিউজকে সাক্ষাৎকার দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে কারো যদি বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কিংবা অন্য কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা সমস্যা থাকে, তবে তাদের উচিত ফিফার নিজস্ব সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কাউকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাইলে সঠিক পন্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে তা করতে হবে এবং দুইশো এগারোটি সদস্য দেশের অ্যাসোসিয়েশনকে ভোট দিয়ে তা চূড়ান্ত করতে হবে। আগামী বছরের মার্চ মাসে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা কংগ্রেসে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে ক্যাফ প্রধান দাবি করেছেন যে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি কারণ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবগুলো সদস্যদের কাছে উপস্থাপন করার কথা ছিল। বর্তমান নেতৃত্বে নানা ত্রুটি থাকতে পারে এবং কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। ইতোমধ্যে ইনফান্তিনো তার কাজের ধরন নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেছেন যে প্রক্রিয়াটি ভিন্নভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল এবং তারা সংশ্লিষ্ট মহলের পরামর্শও গ্রহণ করছেন। বৈশ্বিক ফুটবলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া প্রশাসনকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে গভীরে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি এবং একের পর এক সদস্য দেশের সমর্থন প্রত্যাহারের পরেও আফ্রিকান এবং এশিয়ান অঞ্চলের সমর্থনে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বর্তমান ফিফা প্রধান। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরের নির্বাচন কেবল একজন ব্যক্তির ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং বিশ্ব ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকেও নতুন রূপ দেবে। কী ধরনের নতুন সমীকরণের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন, তবে সদস্য দেশগুলোর ভোট ব্যাংক এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে এখন তীব্র মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ফুটবলপ্রেমী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এখন সামনের বছরের কংগ্রেসে বসা নির্বাচনের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখে চলেছে।
