ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি ফুটবলার মানর সলোমনকে দলে নেওয়ার ঘোষণা আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ শুরু হয়েছে। টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে আনুমানিক পাঁচ থেকে সাত মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে সাতাশ বছর বয়সী এই উইঙ্গারকে দলে ভিড়িয়েছে লন্ডনভিত্তিক ক্লাবটি। শাকতার দোনেৎস্ক ও ফুলহ্যামের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর লিডস ইউনাইটেদের হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এই খেলোয়াড়। তবে মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং সামাজিক মাধ্যমে ইসরায়েলের পক্ষে করা বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে ফুটবলপ্রেমীদের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
গাজা সংঘাতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পক্ষে প্রকাশ্য সমর্থন এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন বিতর্কে অংশ নেওয়ার কারণে সলোমন এর আগেও স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালে খেলার সময় সমর্থকদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন। আল জাজিরা জানিয়েছে যে ওয়েস্ট হ্যামের সাম্প্রতিক এই চুক্তির পর ক্লাবের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী সমর্থকরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই ক্লাব কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এটিকে নৈতিক দ্বিমুখী নীতির বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে তার অতীত সামরিক সেবা এবং ফিলিস্তিনবিরোধী বিভিন্ন পোস্টের ইতিহাস সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিভাজন তৈরি করেছে।
ক্লাবটির কিছু সমর্থক অবশ্য মনে করেন যে মাঠের খেলায় মনোনিবেশ করার স্বার্থে রাজনীতি ও ফুটবলকে আলাদা রাখা উচিত। ক্যালুম গর্ডন নামক ওয়েস্ট হ্যামের একজন দীর্ঘদিনের অনুগত সমর্থক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তিনি দলের খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক বিশ্বাসের চেয়ে তাদের পারফরম্যান্সকেই বেশি প্রাধান্য দিতে চান। অন্যদিকে ইওলা রাইট নামের আরেক সমর্থক উল্লেখ করেছেন যে খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত প্রতিভা অস্বীকার করার উপায় না থাকলেও গাজায় সংঘটিত মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বিতর্কিত খেলোয়াড়কে দলে টানা ক্লাবের ভাবমূর্তি এবং দলের ভেতরের ঐক্য বিনষ্ট করতে পারে।
ফিলিস্তিনি ক্রীড়া সাংবাদিকদের মতে, এই ধরনের খেলোয়াড়দের ইউরোপীয় ক্লাবগুলোতে স্থান দেওয়া এক ধরনের নৈতিক অবক্ষয়। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী বিগত সংঘাতের সময় গাজার হাজারেরও বেশি ক্রীড়াবিদ ও ফুটবলপ্রেমী প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত ক্রীড়া অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাথে অতীতে সংশ্লিষ্টতা থাকা এবং গাজায় চলমান সামরিক আগ্রাসনকে সমর্থন জানানো কোনো খেলোয়াড়কে সাদরে বরণ করে নেওয়া মানবাধিকারের প্রতি চরম অবমাননা বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
ওয়েস্ট হ্যাম ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং সলোমনের প্রতিনিধিদের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে লিডস ইউনাইটেডে খেলার সময় তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় ক্লাব কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট হ্যামের গ্যালারিতে এই বিতর্ক কেমন প্রভাব ফেলে এবং ক্লাব ম্যানেজমেন্ট কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। নতুন এই ক্লাবের হয়ে মাঠে নামার আগে সলোমনকে যে মাঠের বাইরের তীব্র সমালোচনার ঝড় মোকাবিলা করতে হবে তা বলাই বাহুল্য।
