শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ইউরোলিগ বাস্কেটবল

ষোল পয়েন্টের ব্যবধান ঘুচিয়ে অলিম্পিয়াকোসকে হারাল ফেনারবাচে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৮:৩০ এএম

ষোল পয়েন্টের ব্যবধান ঘুচিয়ে অলিম্পিয়াকোসকে হারাল ফেনারবাচে

ইউরোলিগের রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে ষোল পয়েন্টে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে তুরস্কের ক্লাব ফেনারবাচে। গ্রিসের ঐতিহ্যবাহী দল অলিম্পিয়াকোসের মুখোমুখি হয়েছিল তারা। সানেল অ্যারেনায় ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণভাগে বড় ধরনের ধুঁকতে দেখা যায় অতিথিদের। তবে বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তুর্কি দলটি। খেলার শেষ মুহূর্তে ওয়েড বাল্ডউইনের একটি দারুণ লে-আপ শট ফেনারবাচের জয় নিশ্চিত করে।

ম্যাচের শুরুটা বেশ ভালো করেছিল ফেনারবাচে। তারা ৫ থেকে ১ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে দারুণ সূচনা পায়। এরপরই ম্যাচে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় অলিম্পিয়াকোস। তারা অনবদ্য খেলে টানা সতেরো পয়েন্ট তুলে নেয়। প্রথম কোয়ার্টার শেষে স্বাগতিক দল অনেকটাই নিরাপদ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, যেখানে স্কোর ছিল ২০ থেকে ৮।

দ্বিতীয় কোয়ার্ডারে নিজেদের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ষোল পয়েন্টে নিয়ে যায় গ্রিক দলটি। ফলে স্কোর দাঁড়ায় ৩০ থেকে ১৪। তবে বিরতির আগেই ব্যবধান কিছুটা কমাতে সক্ষম হয় ফেনারবাচে। প্রথমার্ধ শেষে স্কোরবোর্ডে স্বাগতিকদের পক্ষে ৩৪ থেকে ২৪ পয়েন্ট দেখা যায়।

বিরতির পর সম্পূর্ণ নতুন তেজ নিয়ে মাঠে নামে ইস্তামুলভিত্তিক ক্লাব ফেনারবাচে। তারা তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই ১০ থেকে ২ পয়েন্টের একটি রান উপহার দেয়। এতে স্বাগতিকদের সঙ্গে তাদের ব্যবধান কমে মাত্র দু পয়েন্টে নেমে আসে, যেখানে স্কোর দাঁড়ায় ৩৬ থেকে চৌত্রিশ।

এই ধাক্কা সামলে অলিম্পিয়াকোসও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় এবং টানা আট পয়েন্ট তুলে নেয়। তবে সফরকারীরাও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিল না। তারাও সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে আট পয়েন্ট সংগ্রহ করে। তবুও নির্ধারিত সময়ের শেষ কোয়ার্টারে ৪৯ থেকে ৪৫ পয়েন্টে এগিয়ে থেকেই প্রবেশ করে স্বাগতিকরা।

চতুর্থ কোয়ার্টারে নিজেদের ব্যবধান আবার বাড়িয়ে ৫৯ থেকে একান্ন পয়েন্টে নিয়ে যায় অলিম্পিয়াকোস। ম্যাচের ঘড়িতে তখন মাত্র এক মিনিট এগারো সেকেন্ড বাকি। ঠিক সেই মুহূর্তে ফেনারবাচে নয় থেকে দুই পয়েন্টের ঝোড়ো আক্রমণ চালিয়ে ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্টে নামিয়ে আনে। স্কোর তখন দাঁড়ায় ৬১ থেকে ষাট।

এরপর খেলার মাত্র ৩৮ সেকেন্ড বাকি থাকতে দুর্দান্ত এক লে-আপে বল জালে জড়ান বাল্ডউইন। এই ঝকঝকে শটের সুবাদেই ম্যাচের প্রথম মিনিটের পর এই প্রথম লিড নেয় ফেনারবাচে। স্কোরবোর্ডে তাদের পক্ষে ওঠে ৬২ থেকে একষট্টি পয়েন্ট।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ফ্রি-থ্রো লাইন থেকে নিজেদের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ৬৪ থেকে একষট্টি পয়েন্টে নিয়ে যায় সফরকারীরা। খেলার একদম শেষ মুহূর্তে অলিম্পিয়াকোসের সাশা ভেজেনকভ সমতা ফেরানোর একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন। তিনি একটি তিন পয়েন্টের শট মিস করলে তুর্কি দলটির অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

ম্যাচে ফেনারবাচের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৭ পয়েন্ট ও সাতটি রিবাউন্ড অর্জন করেন শাভন শিল্ডস। এছাড়া বাল্ডউইন ১৪ পয়েন্ট এবং পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেন। শেন লারকিন ১৩ পয়েন্ট ও পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে দলকে জয় এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন।

অন্যদিকে অলিম্পিয়াকোসের হয়ে দুর্দান্ত খেলে ১৭ পয়েন্ট ও দশটি রিবাউন্ডের মাধ্যমে ডাবল-ডাবল পূর্ণ করেন সাশা ভেজেনকভ। কোডি মিলার-ম্যাকইনটাইয়ার ১২ পয়েন্ট এবং ছয়টি অ্যাসিস্ট করেন। এছাড়া টাইসন ওয়ার্ড অবদান রাখেন ১১ পয়েন্ট।

এই রোমাঞ্চকর জয়ের ফলে ফেনারবাচে তাদের পয়েন্ট টেবিলে ছয়টি জয় ও একটি পরাজয় নিয়ে অবস্থান আরও শক্ত করল। তারা বর্তমানে ইউরোলিগের শীর্ষ দল প্যানাথিনাইকোসের ঠিক সমান অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে এই হারে অলিম্পিয়াকোসের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে পাঁচটি জয় ও দুটি পরাজয়ে।

banner
Link copied!