গত শনিবার নেশন্স চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে হিউ কিনানের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ভর করে আর্জেন্টিনাকে ৪২ থেকে ১২ পয়েন্টে পরাজিত করেছে আয়ারল্যান্ড। ম্যাচের শেষ কোয়ার্টার শুরুর আগেই এই ফুলব্যাক তার তিনটি ট্রাই নিশ্চিত করেন।
২০২৫ সালের সিক্স নেশন্স টুর্নামেন্টের পর ইনজুরির কারণে দীর্ঘ ২১ মাস আভিভা স্টেডিয়ামে খেলার বাইরে ছিলেন কিনান। ছয় ট্রাইয়ের এই জয়ের পর নিজের দীর্ঘ অনুপস্থিতির অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
সংবাদকর্মীদের কিনান জানান, ২১ মাস পর সবুজ জার্সিতে এই মাঠে খেলতে নেমে খুব ভালো লাগছে। বাইরে বসে সতীর্থদের খেলা দেখা বেশ কঠিন ছিল, তাই মাঠে নামতে পেরে এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে তিনি আনন্দিত।
ম্যাচটিকে অনেকেই আগামী বছরের বিশ্বকাপ নকআউট পর্বের একটি সম্ভাব্য পূর্বরূপ হিসেবে দেখছেন। আর্জেন্টিনার কোচ ফেলিপ কনতেপোমি সম্প্রতি স্ক্যাম ও রক্ষণভাগ দেখভালের জন্য মারিও লেদেসমা ও শন এডওয়ার্ডসকে দলে যুক্ত করেছেন।
বড় ব্যবধানে হারলেও ম্যাচটি দুর্দান্ত শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের এগারো মিনিট পর টমাস আলবোর্নোজের ক্রসকিক থেকে ক্রেগ কেসির মাথার ওপর দিয়ে লাফিয়ে বল ধরে প্রথম ট্রাই করেন মাতেও কারেরাস।
দ্বিতীয়ার্ধে সফরকারীদের হয়ে আরও একটি ট্রাই করেন কারেরাস। মূলত এই দুটি স্কোরই ছিল আর্জেন্টিনার পুরো ম্যাচের আক্রমণাত্মক অর্জনের সমাপ্তি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আয়ারল্যান্ড একুশ থেকে পাঁচ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল, যদিও কোচ অ্যান্ডি ফারেল তার দলের কাছ থেকে আরও নিখুঁত পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করেছিলেন। ফারেল উল্লেখ করেন, প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ইনজুরি ও হলুদ কার্ডের সমস্যয় ভুগলেও তার দল সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে স্যাম প্রেন্ডারগাস্ট দারুণ গতি ও ক্ষিপ্রতায় ফাঁকা জায়গা তৈরি করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাই করে আয়ারল্যান্ডের ব্যবধান আরও বাড়ান। এছাড়া রোয়ান কেলহেরও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে ট্রাই আদায় করে নেন এবং স্বাগতিকরা পুরো ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে।
ম্যাচ শেষে অ্যান্ডি ফারেল জানান, এই দুর্দান্ত জয়টিকে ভিত্তি করে তারা দলীয় মান উন্নত করার উপায় খুঁজবেন। তিনি আরও বলেন, তারা মাঠে আধিপত্য বিস্তার করলেও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে।
