রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্রেকিং নিউজ

বিশ্বকাপ ২০২৬: টিকেটের আকাশচুম্বী মূল্যে দর্শকদের চরম ক্ষোভ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৩, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

বিশ্বকাপ ২০২৬: টিকেটের আকাশচুম্বী মূল্যে দর্শকদের চরম ক্ষোভ

ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৪০ দিনেরও কম সময়। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের বিতর্ক এখন তুঙ্গে। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই আসরের টিকেটের দাম নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচের টিকেটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের এতটাই বাইরে চলে গেছে যে অনেক গ্যালারি এখনো অবিক্রিত রয়ে গেছে। কাতার বিশ্বকাপের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর আমেরিকার এই আসরটি এখন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল টুর্নামেন্টে পরিণত হতে যাচ্ছে।

আল জাজিরা এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী লস অ্যাঞ্জেলেসে আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচের টিকেটের দাম ১ হাজার ১২০ ডলার থেকে শুরু করে ৬ হাজার ৫০ ডলার পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৭ লাখ টাকারও বেশি। সাধারণ গ্যালারির আসনগুলোর গড় দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ডলার। ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের ‍‍`লাস্ট মিনিট সেলস‍‍` সেকশনে এখনো প্রচুর টিকেট অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে যা খোদ ফিফা কর্মকর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত জানুয়ারিতে দাবি করেছিলেন যে এবারের বিশ্বকাপের টিকেটের চাহিদা হবে গত এক হাজার বছরের চাহিদার সমান। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। অনেক সাধারণ ভক্ত অভিযোগ করেছেন যে টিকেটের এই ‍‍`ডায়নামিক প্রাইসিং‍‍` বা চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দাম বাড়ানোর কৌশলের কারণে তারা মাঠ থেকে খেলা দেখার সুযোগ হারাচ্ছেন। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে ফিফা এবার সর্বোচ্চ মুনাফা করার লক্ষ্যে টিকেটের দাম এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এমনকি ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকেটের দাম ১১ হাজার ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

লিভারপুল ক্লাবের সাবেক প্রধান নির্বাহী পিটার মুর এই পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে ফিফা মার্কিন বাজারের বাণিজ্যিক সুযোগের অপব্যবহার করছে। তিনি জানান ডায়নামিক প্রাইসিং থেকে ফিফা ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ নিচ্ছে যা অত্যন্ত অনৈতিক। তার মতে যেখানে ফিফা এই বিশ্বকাপ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সেখানে টিকেট সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রেখে ৮ বিলিয়ন ডলার আয় করলেও টুর্নামেন্টের সৌন্দর্য বজায় থাকত। ইতিমধ্যে ফিফার নিজস্ব রিসেল সাইটে ফাইনাল ম্যাচের চারটি আসনের দাম ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠতে দেখা গেছে।

অবশ্য সব ম্যাচের চিত্র একই রকম নয়। মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচটি ইতিমধ্যে হাউজফুল হয়ে গেছে। এছাড়া মেক্সিকোর মাটিতে হতে যাওয়া সাতটি ম্যাচের সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। অন্যদিকে ব্রাজিল বনাম মরক্কো এবং স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিলের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোর টিকেটও ফুরিয়ে গেছে। তবে অস্ট্রিয়া বনাম জর্ডান কিংবা নিউজিল্যান্ড বনাম মিসরের মতো ছোট দলগুলোর গ্রুপ পর্বের ম্যাচে টিকেটের দাম ৩৮০ ডলারে নেমে এসেছে। তবুও সাধারণ ফুটবল ভক্তদের কাছে এই দামও অনেক বেশি মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত গ্যালারি পূর্ণ হবে নাকি উচ্চমূল্যের কারণে খালি আসন নিয়েই মাঠে গড়াবে ফুটবল—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

banner
Link copied!