কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির সুবাদে ব্যয় কমানোর বড় এক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্যাংক বার্কলেস।
বিশ্বজুড়ে ব্যাংকটির মোট তেरानব্বই হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাংশ এই ছাঁটাইয়ের কবলে পড়ছেন। এর মধ্যে বছরের শুরু থেকেই এক হাজার কর্মীকে ইতোমধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আনা ক্রস সাংবাদিকদের জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে একশ দশ কোটি পাউন্ডের বেশি ব্যয় সংকোচন কৌশলেরই একটি অংশ এই কর্মী ছাঁটাই। এর মাধ্যমে প্রায় পাঁচ হাজার পূর্ণকালীন কর্মী কমবে।
গ্রুপের মোট পদক্ষেপের প্রায় ষাট শতাংশই সহায়তা ফাংশনগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মীদের কাজের গতি বাড়িয়ে দেওয়ায় সফটওয়্যার ডেভেলপারদের সংখ্যাও কমানো হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছাঁটাইয়ের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কত, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাহী সি এস ভেংকটাকৃষ্ণণ জানান, ব্যাংকটি প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ এবং প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ব্যাংকের প্রযুক্তি আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে উপরি পাওনা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ইউনিয়ন নেতার মতে, বার্কলেসের কর্মীরা এর চেয়ে ভালো কিছু পাওয়ার দাবিদার। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কর্মীদের বাদ দেওয়ার বাহানা হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি।
স্বল্পমেয়াদি ও হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন ওই শ্রমিক নেতা।
এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আরেক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে চার বছরে সাত হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল।
এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীদের আরও পঞ্চাশ কোটি পাউন্ড দেওয়ার পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে বার্কলেস। এর ফলে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ ও শেয়ার পুনর্ক্রয় বাবদ মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়াল দুইশ আশি কোটি পাউন্ডে।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকটি ২৩ কোটি পাউন্ড করপূর্ববর্তী মুনাফা অর্জন করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ২১ কোটি পাউন্ড, যা ১২ শতাংশ বেশি।
প্রধান নির্বাহী ভেংকটাকৃষ্ণণ জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটে ব্যাংকের ওপর কর বাড়ানোর যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
এদিকে শক্তিশালী আর্থিক ফলাফলের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলোর ওপর কর বাড়ানোর দাবি নতুন করে তুলেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।
সাধারণ মানুষ যখন দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ব্রিটেনের বড় চার ব্যাংক দুই হাজার কোটি পাউন্ড মুনাফা করেছে এবং তাদের আরও বেশি কর দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন টিইউসি সাধারণ সম্পাদক পল নোয়াক।
