শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

উপকূল পর্যবেক্ষণ

মোবাইল ক্যামেরায় বৈশ্বিক উপকূলের ভাঙন পর্যবেক্ষণ করছে সাধারণ মানুষ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

মোবাইল ক্যামেরায় বৈশ্বিক উপকূলের ভাঙন পর্যবেক্ষণ করছে সাধারণ মানুষ

আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উপকূলের রূপও ক্রমাগত বদলাতে থাকে। গবেষকদের জন্য এই উপকূলের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই কাজে এখন বিজ্ঞানীদের সাহায্য করছেন একদল স্বেচ্ছাসেবী, যাঁদের প্রধান অস্ত্র মোবাইল ফোনের ক্যামেরা।

২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় কোস্টস্ন্যাপ উদ্যোগটি শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমুদ্র সৈকতে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে একুশটি দেশে দুই শতাধিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র কাজ করছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমন্বিত স্থলভিত্তিক উপকূল পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি।

সৈকতে বেড়াতে আসা সাধারণ মানুষ প্রায়ই এই বিশেষ ব্যবস্থা দেখতে পান। নির্দিষ্ট এই স্থানগুলোতে একটি করে ধাতব ফ্রেম বা ক্র্যাডল থাকে, যাতে স্মার্টফোনটি স্থিরভাবে রাখা যায়। পাশেই থাকে একটি নির্দেশিকা সাইনবোর্ড, যেখানে ছবি জমা দেওয়ার নিয়ম বলে দেওয়া হয়।

প্রকৃতির নিয়মেই উপকূলের রূপ বদলায়। বড় ঢেউ আর জোয়ারের টানে সৈকত থেকে বালি সরে যায়, আবার শান্ত আবহাওয়ায় বালি জমে উপকূল পুনর্গঠিত হয়। ঢেউ ও জোয়ারের প্রতিক্রিয়ায় বালিয়াড়িগুলোও ভেতরের দিকে বা বাইরের দিকে সরে যায় এবং তাদের আকৃতি বদলে ফেলে।

এর কিছু পরিবর্তন সাময়িক হলেও অনেক পরিবর্তন স্থায়ী রূপ নেয়। নিজ উদ্যোগে এই পরিবর্তনগুলোর ওপর নজর রাখা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ব্যাপার। তাই সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনের সাহায্যে ছবি তোলার এই উদ্যোগ উপকূলের গতিপ্রকৃতি নিয়ে গবেষণাকারীদের জন্য দারুণ এক প্রাপ্তি হয়ে উঠেছে।

প্রতিটি কেন্দ্রের ধাতব ফ্রেমটি নিশ্চিত করে যেন প্রতিটি ছবি ঠিক একই অবস্থান এবং কোণ থেকে তোলা হয়। ছবি জমা পড়ার পর বিশেষ সফটওয়্যার সেগুলোকে এক সারিতে আনে এবং জ্যামিতিক উপায়ে পরিবর্তন করে সৈকতের ওপর থেকে দেখার মতো একটি দৃশ্য তৈরি করে।

এরপর একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদম সেই ছবির সাহায্যে উপকূলের মানচিত্র তৈরি করে। ছবি তোলার সঠিক সময় বা টাইমস্ট্যাম্প দেখে জোয়ারের উচ্চতার বিষয়টি মিলিয়ে নিয়ে সিস্টেমে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়।

এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংগৃহীত ডেটা গবেষকদের দীর্ঘ সময় ধরে উপকূলীয় ক্ষয় পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা এই জনতার পাঠানো ছবি ব্যবহার করে ঝড়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলগুলোর ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণও মূল্যায়ন করেন।

এছাড়াও, এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা বুঝতে পারেন সৈকত পুনর্ভরাট প্রকল্পগুলো কতখানি সফল হচ্ছে। ক্ষয়প্রাপ্ত উপকূল রক্ষায় বালু বা নুড়ি পাথর ফেলে এই প্রকৌশল প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয় এবং ছবি তোলার স্টেশনগুলো দেখে দেয় এই উদ্যোগগুলো কতটা টেকসই হচ্ছে।

ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কর্নওয়ালের প্র্রা স্যান্ডস সৈকতসহ বর্তমানে বহু স্থানে এই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়েছে।

banner
Link copied!