আসন্ন গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আকাশপথে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের জন্য কিছুটা অস্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে ব্রিটিশ সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জেট ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় এয়ারলাইনসগুলোকে বেশ কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্লাইট বাতিল করার অনুমতি দেওয়ার একটি বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীরা যে ভয়াবহ বিড়ম্বনায় পড়েন, তা কমিয়ে আনা।
সাধারণত ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে এয়ারলাইনসগুলোকে তাদের নির্দিষ্ট `স্লট` বা উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় ধরে রাখার জন্য অন্তত ৮০ শতাংশ ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়। যদি কোনো কোম্পানি এই শর্ত পূরণ করতে না পারে, তবে তারা মূল্যবান সেই স্লটটি হারায় যা কোটি কোটি পাউন্ড মূল্যের হতে পারে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে যদি কোনো কোম্পানি আগেভাগেই ফ্লাইট বাতিল করে, তবে তাদের স্লট হারানোর ভয় থাকবে না। পরিবহন মন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার জানিয়েছেন, এই গ্রীষ্মে যারা ভ্রমণ করবেন তাদের অভিজ্ঞতা যেন গত বছরের মতোই স্বাভাবিক থাকে তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবিসি-র তথ্যমতে, এই পরিকল্পনার ফলে এয়ারলাইনসগুলো একই গন্তব্যে দিনে একাধিক ফ্লাইট থাকলে সেগুলোকে একীভূত বা মার্জ করতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ, লন্ডন থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট যাওয়ার জন্য যদি দিনে ১০টি ফ্লাইট থাকে, তবে যাত্রী কম থাকলে বা জ্বালানি বাঁচাতে দুটি ফ্লাইট বাতিল করে যাত্রীদের অন্য ফ্লাইটে সরিয়ে নেওয়া হবে। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং পর্যটনকেন্দ্রিক দূরপাল্লার ফ্লাইটগুলো সচল রাখা সম্ভব হবে। মূলত বিজনেস ট্রাভেলারদের চেয়ে পর্যটকদের ছুটিতে যাতায়াতকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার।
যুক্তরাজ্য তার ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কিন্তু পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহের স্বাভাবিক চেইন ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে যে, জুন মাসের মধ্যে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হতে পারে। যদিও বিমান সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত কোনো সরবরাহ ঘাটতির কথা জানায়নি, তবে পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেকোনো সময় নেতিবাচক মোড় নিতে পারে।
বর্তমানে ব্রিটিশ সরকার বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। এছাড়া স্থানীয় রিফাইনারিগুলোকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবহন মন্ত্রী আলেকজান্ডার যদিও আশাবাদী যে অধিকাংশ যাত্রী সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তবুও তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে এয়ারলাইনসগুলোকে তাদের শিডিউলে কিছুটা কাটছাঁট করতে হতে পারে। আসন্ন মাসগুলোতে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এবং জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারের ওপরই নির্ভর করবে আপনার গ্রীষ্মকালীন ছুটির আনন্দ কতটা মসৃণ হবে।
