জাপানের ফুকুশিমা অঞ্চলে একটি ইলেকট্রনিক্স কারখানায় ঢুকে পড়া ভাল্লুক অত্যন্ত কৌশলে জানালা খুলে পালিয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাল্লুকটি এর আগে স্টিলের একটি কারখানায় ঢুকে চারজন কর্মীকে আহত করেছিল। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভাল্লুকটির গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ফুকুশিমার মেয়র ইউকি বাবা সেটিকে অত্যন্ত বুদ্ধিমান হিসেবে অভিহিত করেছেন। রয়টার্স এবং কিয়োদো নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার গভীর রাতে। ভাল্লুকটি প্রথমে একটি স্টিল কারখানায় প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা কর্মীদের আক্রমণ করে। সেখান থেকে বেরিয়ে ভাল্লুকটি পাশের ইলেকট্রনিক্স কারখানায় আশ্রয় নেয়। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ভাল্লুকটিকে ধরার জন্য কারখানার চারপাশ ঘিরে ফেলে এবং চেতনানাশক ডার্ট ব্যবহার করার পরিকল্পনা করে। তবে প্রাণীটিকে কাবু করার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাল্লুকটিকে ফাঁদে ফেলার জন্য সেখানে মধু ও ফলের টোপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রাণীটি কোনো ফাঁদে পা দেয়নি। উল্টো সেটি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে খাবার খেয়ে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে গেছে। বুধবার রাতে ভাল্লুকটি কারখানার একটি জানালা খুলে পালিয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ভাল্লুকটি নিজেই জানালার ল্যাচ বা ছিটকিনি খুলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে ভাল্লুকটিকে পানির কল খুলে পানি পান করতেও দেখা গিয়েছিল, যা তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়।
কারখানার ভেতরে দাহ্য পদার্থ থাকায় পুলিশ ভাল্লুকটিকে গুলি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। বর্তমানে ফুকুশিমা কর্তৃপক্ষ ড্রোন ব্যবহার করে ভাল্লুকটির সন্ধান চালাচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে স্থানীয় বিদ্যালয়গুলোতে সশরীরে ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। জাপানে বর্তমানে ভাল্লুকের হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত বছর এ ধরনের হামলায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যা একটি রেকর্ড।
শরৎকালে ভাল্লুকের খাবারের সন্ধানে বসতি এলাকায় চলে আসার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, কারণ শীতের অবসাদ কাটানোর আগে তারা প্রচুর শক্তি সঞ্চয় করতে চায়। ফুকুশিমার মেয়র ইউকি বাবা জানিয়েছেন, ভাল্লুকটিকে ধরতে তারা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছেন এবং এর পালিয়ে যাওয়াকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নন। ফুকুশিমা জুড়ে এখন সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
