যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তন ঘটেছে। কিয়ার স্টারমার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার তিনি বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই পদত্যাগের মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হলো। এখন অ্যান্ডি বার্নাম যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন। রয়টার্স ও বিবিসি নিউজের তথ্যমতে এই পালাবদল সম্পন্ন হচ্ছে।
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত দুই বছর ক্ষমতায় ছিলেন। নিজের শেষ ভাষণে তিনি জানিয়েছেন যে তার সময়কালে ব্রিটেন আগের চেয়ে শক্তিশালী ও ন্যায়সংগত হয়েছে। তিনি Downing Street এর সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বিদায়ী বক্তব্য দেন। নিজের কাজের প্রতি তিনি গর্ব প্রকাশ করেন এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্টারমারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিকে বিশ্লেষকরা বড় কারণ হিসেবে দেখছেন। লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং স্থানীয় নির্বাচনে দলের ভরাডুবি তার পদত্যাগের পথ প্রশস্ত করেছে।
এরই মধ্যে ক্যাবিনেট পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কারাগার বিষয়ক মন্ত্রী লর্ড টিমসন পদত্যাগ করেছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে বার্নাম তার পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার সাজাতে চাইছেন। এদিকে নতুন সরকারের অধীনে সম্ভাব্য কর ছাড়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যা ব্রিটিশ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কর ব্যবস্থার এই পরিবর্তনের খবর গণমাধ্যমে বেশ আলোচনা তৈরি করেছে।
লর্ড টিমসন পদত্যাগ করে জানিয়েছেন যে এই পদে থেকে তিনি যতটুকু সম্ভব কাজ করেছেন। এটি নতুন সরকারের অধীনে মন্ত্রিসভার প্রথম বড় রদবদল। বার্নাম এর আগে বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার কাজের জন্য বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয়। এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ব্রিটেনকে কোন দিকে নিয়ে যাবেন সেটাই দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন বার্নামকে শুরুতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে।
ব্রিটেনের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে। কিয়ার স্টারমার যখন দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন তখন ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। অ্যান্ডি বার্নাম সেই অস্থিরতা কাটিয়ে কতটা দ্রুত সরকার পরিচালনা শুরু করতে পারেন তা নিয়ে এখন চলছে ব্যাপক জল্পনা। নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখা এবং দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা।
রাজা তৃতীয় চার্লস আজ বিকেলে অ্যান্ডি বার্নামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন বার্নাম। পুরো বিষয়টি খুব দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই পরিবর্তনের দিকে কড়া নজর রাখছে। ব্রিটেনের রাজনীতিতে এই নতুন অধ্যায় কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
