যুক্তরাজ্যে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হয়েছে। সোমবার বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অ্যান্ডি বার্নাম আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গত এক দশকে তিনি যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে দেশকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে নিজের সরকারি বাসভবনে পৌঁছানোর পর সমর্থকদের করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়।
বার্নামের এই নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে এমন এক সময়ে যখন দেশটি বিভিন্ন দিক থেকে চাপের মুখে রয়েছে। পপুলিস্ট বা জনতুষ্টিবাদী শক্তির উত্থান এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণে বার্নাম জানিয়েছেন যে তিনি ব্রিটেনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কাজ করবেন। তিনি বলেছেন যে ব্রিটেনকে বিশ্ববাসীর সামনে দেখাতে হবে যে তারা আবার স্থিতিশীলতা ফিরে পেতে সক্ষম। তিনি স্বীকার করেছেন যে বিগত দিনগুলোতে সরকার পরিচালনায় ঘাটতি ছিল এবং এখন নতুনভাবে আরও ভালো কিছু করার সময় এসেছে।
ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নাম ব্রিটেনের এই পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি দেশের নেতৃত্বের ‘ঘূর্ণায়মান দরজা’ বা ঘন ঘন পরিবর্তন নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তার মতে, রাজনীতিতে এখন নতুন সংকল্প নেওয়ার সময় এসেছে। তিনি কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হলেন। স্টারমার মাত্র দুই বছর আগে বড় ব্যবধানের জয় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। জনপ্রিয়তার গ্রাফ নিচে নেমে যাওয়া এবং পপুলিস্ট শক্তির উত্থান তার বিদায়ের পথ ত্বরান্বিত করেছে।
কিয়ার স্টারমার যখন ক্ষমতা ছাড়েন, তখন তিনি তার কার্যকালকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী বার্নামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন যে বার্নামের সামনে চ্যালেঞ্জের পাহাড় জমে আছে। অর্থনৈতিক সংকট, জীবনযাত্রার মান এবং পপুলিস্ট শক্তির মোকাবিলা করা হবে তার প্রধান কাজ।
ব্রিটেনের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে পপুলিস্ট বা জনতুষ্টিবাদী শক্তিগুলো যেভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে, তা রুখতে বার্নামকে কঠোর ও কৌশলী হতে হবে। আগামী কয়েক দিন তিনি মন্ত্রিসভা সাজানোর কাজে ব্যস্ত থাকবেন। তার সরকার দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে ফিরিয়ে নিতে পারে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন সাধারণ মানুষ।
