ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম নতুন করে লিখলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুট জিতে নিয়েছেন ফ্রান্সের এই তারকা। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুইবার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি জেতার গৌরব অর্জন করলেন। আটটি ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি মোট ১০টি গোল করেছেন। তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিকেও ছাড়িয়ে যেতে সাহায্য করেছে। কাতার বিশ্বকাপে আটটি গোল করে প্রথমবার গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনি। এবার সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল।
২৭ বছর বয়সী এই তারকা বিশ্বকাপে মোট ২২টি গোল করেছেন। এই সংখ্যা তাকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। এর আগে জার্ড মুলার ১৯৭০ সালে ১০ গোল করেছিলেন, যা ছিল বেশ দীর্ঘ সময়ের রেকর্ড। এমবাপ্পের এই সাফল্যকে বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্লেষকরা অভাবনীয় বলে অভিহিত করেছেন। ফ্রান্স সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠতে না পারলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে এমবাপ্পে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। শনিবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও তিনি গোল করেছেন। ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ থাকলেও তার গোল সংখ্যা তাকে এই টুর্নামেন্টের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠত্ব এনে দিয়েছে।
রয়টার্স ও বিবিসি স্পোর্টসের তথ্যমতে, স্পেন এই টুর্নামেন্টের সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার স্পেনের বিশ্বকাপ জয় এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন। ৩০ বছর বয়সী রদ্রিকে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পুরস্কার প্রদান করেন। ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনা স্পেনকে পরাস্ত করতে পারেনি। ১—০ গোলের ব্যবধানে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় রদ্রির এই অর্জন পূর্ণতা পেয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচে গোল করতে না পারায় লিওনেল মেসি ৮টি গোল নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন। ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম এবং নরওয়ের এরলিং হালান্ড ৭টি করে গোল করেছেন। উসমান দেম্বেলে এবং হ্যারি কেইন ৬টি করে গোল করে তালিকার পরের দিকে রয়েছেন। রদ্রি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বড় ব্যক্তিগত সম্মাননা অর্জন করলেন। এর আগে ২০২৩ সালে ব্যালন ডি অর এবং উয়েফা ইউরো ২০২৪—এ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে রদ্রি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বর্তমানে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার বলা হয়।
এমবাপ্পে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত অর্জন থেকে দলের জয় তার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফাইনালে খেলতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও ক্যারিয়ারের শেষে এই অর্জন তাকে গর্বিত করবে বলে তিনি মনে করেন। তার গোল করার ক্ষমতা এবং মাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল আলোচনার তুঙ্গে। গ্রুপ পর্বে সেনেগাল ও ইরাকের বিরুদ্ধে গোল করার পাশাপাশি শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে তার পেনাল্টি গোলটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালেও তিনি লক্ষ্যভেদ করেছিলেন। এই সাফল্য তাকে ফুটবলের ইতিহাসে এক বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
