ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস তাদের রাজনৈতিক ব্যুরোর নতুন প্রধান হিসেবে খলিল আল-হাইয়াকে নির্বাচিত করেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির মাধ্যমে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হামাসের অভ্যন্তরীণ শুর কাউন্সিলে আয়োজিত এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণ করা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। খলিল আল-হাইয়া ২০২৭ সালের বর্তমান নির্বাচনী মেয়াদের শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে সংগঠনটির নেতৃত্বে ছিলেন ইয়াহিয়া সিনওয়ার, যাকে ২০২৪ সালে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় প্রাণ হারাতে হয়। সিনওয়ারের পূর্বে ইসমাইল হানিয়া রাজনৈতিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তিনিও একই বছর গুপ্তহত্যার শিকার হন। নেতৃত্বের এই ধারাবাহিক শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে হামাস তাদের দীর্ঘদিনের নেতা এবং অভিজ্ঞ আলোচক খলিল আল-হাইয়াকে বেছে নিয়েছে। বিশেষ উল্লেখ্য যে, গত বছর কাতারে থাকাকালীন আল-হাইয়া নিজেও ইসরায়েলি বাহিনীর গুপ্তহত্যার চেষ্টা থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।
নতুন নেতা নির্বাচনের এই প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ প্রতিযোগিতামূলক। হামাসের সাধারণ শুর কাউন্সিলে চূড়ান্ত পর্বে খলিল আল-হাইয়া এবং সাবেক রাজনৈতিক প্রধান খালেদ মেশালের মধ্যে লড়াই হয়। প্রাথমিক ভোটগ্রহণে কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় পঞ্চাশ শতাংশের বেশি সমর্থন না পাওয়ায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রান-অফ বা পুনরায় ভোট গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। এই প্রক্রিয়াটি প্রমাণ করে যে হামাসের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং গঠনতান্ত্রিক নিয়ম মেনে চলে।
খলিল আল-হাইয়ার এই নির্বাচন হামাসের ২০২১ সালের অভ্যন্তরীণ কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্কের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বকে ভৌগোলিক খাতগুলোর ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে গাজা, পশ্চিম তীর এবং প্রবাসী ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব। আল-হাইয়া দীর্ঘ সময় গাজায় হামাসের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নির্বাসিত জীবনেও তিনি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০১৪ সালে গাজায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি যে পাঁচ সদস্যের শাসক পরিষদের অংশ ছিলেন, তার অভিজ্ঞতা এখন সংগঠনের প্রধান হিসেবে তাকে আরও দক্ষ করে তুলবে।
গাজা সিটিতে ১৯৬০ সালের ৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী আল-হাইয়া ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। তার শৈশব কেটেছে ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং নিজ বাড়িতে সামরিক অভিযানের সাক্ষী হিসেবে। ১৯৮০ সালের মার্চ মাসে হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিনের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের পর থেকেই তিনি সংগঠনের মূলধারার সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপর তিনি ইসলামি শিক্ষার ওপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সুদানে হাদিস বিজ্ঞানে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এখন তিনি সংগঠনের প্রধান হিসেবে এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন, যখন ফিলিস্তিনি পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহলের নজর সবচাইতে বেশি।
