শনিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সেউতায় অভিবাসী সংকট নিয়ে ইইউ দেশের প্রতিক্রিয়ায় স্পেনের ক্ষোভ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ১, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

সেউতায় অভিবাসী সংকট নিয়ে ইইউ দেশের প্রতিক্রিয়ায় স্পেনের ক্ষোভ

মরক্কো সীমান্ত দিয়ে সেউতায় প্রায় ষাট হাজার অভিবাসী প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু সদস্য দেশের স্বার্থপর, মেরুকরণ সৃষ্টিকারী ও বেআইনি প্রতিক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্পেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

স্পেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত বুধবার উত্তর আফ্রিকার এই ছিটমহলে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রবেশ করার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাসকা শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে, সেউতায় প্রবেশ করা প্রায় সব অভিবাসীই ফিরে গেছেন এবং স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু হয়েছে। তবে এই পুরো ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে সাতষট্টি জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে একটি নতুন সামুদ্রিক প্রতিবন্ধক বা বাধা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

জর্জিও মেলোনির নেতৃত্বাধীন ইতালি এই ঘটনার পর স্পেনের সঙ্গে ইইউ-এর সীমান্তহীন শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ইতালির প্রধানমন্ত্রী এই দৃশ্যগুলোকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক ইতালির এই পদক্ষেপের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছে, এবং ফিনল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিস্থিতি সাপেক্ষে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত তল্লাশি পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী স্পেনের শেনজেন সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় কমিশন প্রধান উসনা ফন ডের লাইয়েনের কাছে পাঠানো চিঠিতে পেদ্রো সানচেজ অভিযোগ করেছেন যে, কিছু ইউরোপীয় সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ, অজ্ঞতা এবং ভুয়া খবরের বশবর্তী হয়ে স্পেনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সেউতা অঞ্চলটি শেনজেন এলাকার অন্তর্ভুক্ত নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই ধরনের স্বার্থপর এবং বেআইনি প্রতিক্রিয়া মেনে নিতে পারে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, বাইরের সীমান্তগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সব সদস্য রাষ্ট্রের যৌথ দায়িত্ব। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাতাশটি দেশের মধ্যে বাইশটি দেশ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি খোলা চিঠিতে জরুরি আলোচনার দাবি জানিয়েছে এবং স্পেন ও মরক্কোর মধ্যকার সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলেও এই সংকটের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ফ্রান্স তাদের স্পেন সীমান্তে কড়া তল্লাশি শুরু করেছে এবং পুলিশের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রীও সীমান্ত চেকপোস্ট জোরদার করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ অবৈধ অভিবাসীদের ইউরোপীয় মহাদেশে প্রবেশ না দেওয়ার স্পেনের ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই ঘটনাকে অভিবাসন নীতির ফল হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং বিভিন্ন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এই পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

banner
Link copied!