শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তির পথে ইরান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তির পথে ইরান

ইরান এবং ওমান কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের রুটগুলোর স্থানাঙ্ক চূড়ান্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির পূর্ণাঙ্গ উন্মুক্তকরণ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অনুকূল ছাড় পাওয়ার ওপর। আল জাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে প্রণালীটি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র গত জুন মাসের সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো সঠিকভাবে পালন করে কি না তার ওপর। এর আগে তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই ওমানি জলপথের দক্ষিণ রুটকে সমর্থন দেওয়া এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র সমালোচনা করেছিল ইরান।

একই দিনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর নিজস্ব নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনার সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তিনি আরও যোগ করেছেন যে কৌশলগত এই প্রণালী পুনরায় চালু করার জন্য ইরানের নির্ধারিত শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না। তেহরান এই জলপথকে কেবল একটি অর্থনৈতিক রুট হিসেবে দেখছে না, বরং এটি তাদের ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত শক্তির একটি প্রধান উৎস।

ওমানের সঙ্গে প্রায় চূড়ান্ত হওয়া এই আলোচনায় মার্কিন প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসি। এর আগে শুক্রবার ইরানের কঠোরপন্থী সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্রও ওমানের সঙ্গে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ওমানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে জলপথে কিছু নৌযান চলাচল পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিলেও আঞ্চলিক উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। বিগত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এই প্রণালীতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল। শান্তিযুগে বিশ্বের প্রায় বিশ শতাংশ তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়ে থাকে। ফলে এই সামুদ্রিক করিডোর চালুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র কৌতূহল ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা কিছুটা হ্রাস পেলেও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো বেশ জটিল রয়ে গেছে। শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় দেশটির একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এই ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

banner
Link copied!