কোরীয় উপদ্বীপের অসামরিকীকৃত অঞ্চলের পশ্চিম সেক্টরে এক বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সামরিক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। সোমবার নিয়মিত অভিযান পরিচালনার সময় দুই কোরিয়াকে বিভক্তকারী এই সংবেদনশীল সীমান্তরেখায় বিস্ফোরণটি ঘটে বলে জানিয়েছে সিউলের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট উৎস তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
আহতের সংখ্যা তিনজন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আঘাতপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক হেলিকপ্টারে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তৃতীয় কর্মকর্তাকে প্রথমে সড়কপথে কিছু দূর নেওয়ার পর আকাশপথে আকাশযানযোগে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা রাজধানী সিউলের কাছাকাছি একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামরিক সূত্রে ঘটনাটি মাটির নিচে পুঁতে রাখা কোনো পুরোনো বা ভেসে আসা ল্যান্ডমাইন থেকে ঘটতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে।
দুই কোরিয়ার মধ্যকার এই বাফার জোনটি প্রায় ২৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৪ কিলোমিটার প্রশস্ত। বিশ্বের অন্যতম ভারী অস্ত্রে সজ্জিত এই সীমান্ত প্রাচীরের আশপাশে প্রায় ২০ লাখ সক্রিয় ল্যান্ডমাইন রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক স্থায়ী শান্তি চুক্তি ছাড়া কেবল একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ায় এই বিভাজনরেখা তৈরি হয়।
সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া, ট্যাংক ফাঁদ ও উভয় দেশের বিপুল সেনা মোতায়েন রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তর কোরিয়ার সেনারা সীমান্ত প্রাচীর আরও শক্তিশালী করার কাজ শুরু করায় সিউলের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই বিস্ফোরণের পেছনে নতুন কোনো সীমান্ত অনুপ্রবেশের সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সামরিক তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
