রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মরক্কোর রাজনৈতিক রূপান্তর

মরক্কোয় ইসলামপন্থী দল পিজেডির রাজনীতিতে ফেরার লড়াই

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

মরক্কোয় ইসলামপন্থী দল পিজেডির রাজনীতিতে ফেরার লড়াই

মরক্কোর আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের জনসমর্থন পুনরুদ্ধার ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পুনর্গঠনে সক্রিয় হয়েছে ইসলামপন্থী ভাবাদর্শের রাজনৈতিক দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি)। দেশটির সাবেক সরকারপ্রধান আবদেলইলাহ বেনকিরানের নেতৃত্বে দলটি ২০১১ সালের আরব বসন্ত-পরবর্তী সংস্কারের রাজনৈতিক সুবিধাভোগী থেকে ২০২১ সালের বিপর্যয়কর পরাজয় কাটিয়ে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে। টানা এক দশক ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকার পর গত সাধারণ নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছিল দলটি।

২০২১ সালের নির্বাচনে দলটি মাত্র ১৩টি আসনে নেমে আসে।

সে সময় আগের ১২৫টি আসনের মধ্যে ১১২টি আসন হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল পিজেডি। অপরদিকে ১০২টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে জাতীয় স্বতন্ত্র জোট। এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে আসন্ন নির্বাচনের জন্য পাঁচটি প্রধান খাতে মোট ৪৬৭টি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। এর মধ্যে পরিবার ও পরিচয় সংরক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা, অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।

দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মধ্য দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয় করা হচ্ছে।

ক্যাসাব্লাঙ্কা অঞ্চলের দলীয় সমন্বয়কারী সাদ আল-সাবাহি জানিয়েছেন, নাগরিকদের হারানো অধিকার ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণকেই তারা সামনে রাখছেন। তরুণ প্রজন্মকে শুধু নির্বাচনের সময় ভোটার বানানোর বদলে সার্বক্ষণিক নীতিনির্ধারণে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছেন যুব প্রতিনিধি ইমান ত্রাইফি এবং ইয়াসিন এলাচিরি। তবে দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় তাদের রাজনৈতিক আপসের অতীত ইতিহাস।

অতীতে সরকার পরিচালনার সময় নানা প্রশাসনিক ও নীতিগত বাধা পেরোতে গিয়ে দলটি আপস করতে বাধ্য হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২০ সালে পিজেডি সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকাকালেই ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল মরক্কো। যদিও দলটি নীতিগতভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার প্রকাশ্য বিরোধী, তবুও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক মিশন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পরও নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে তারা।

মরক্কোর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী কৌশলগত সব নীতিনির্ধারণের মূল কর্তৃত্ব বাদশাহর হাতেই সংরক্ষিত থাকে। রাজতন্ত্রের অধীনে থেকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন করে জনগণের বিশ্বাস ফেরানোর এই কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা পার হতে চাইছে দলটি।

banner
Link copied!