জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব জাপান তাদের নীতিগত সুদের হার শূন্য দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে এক দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ নির্ধারণ করেছে, যা ১৯৯৫ সালের পর বিগত একত্রিশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর বলে বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির দুই দিনব্যাপী বৈঠক শেষে নয় সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে সাত-দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চলতি বছরের জুন মাসে সুদের হার এক শতাংশে উন্নীত করার মাত্র তিন মাসের মাথায় পুনরায় এই বৃদ্ধি কার্যকর করা হলো।
মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রা বাজারে জাপানি ইয়েনের দরপতন ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা জানান, তারা এমন এক অর্থনৈতিক ধাপে প্রবেশ করেছেন যেখানে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা দুই শতাংশের মধ্যে স্থিতিশীল রাখাই বর্তমান নীতিগত অগ্রাধিকার। উয়েদা আরও স্পষ্ট করেন যে ভবিষ্যতে মূল্য পরিস্থিতি ও অর্থনীতির গতিবিধির ওপর নির্ভর করে ধারাবাহিকভাবে সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
উম্মাহকণ্ঠ ডট কম অনুসন্ধান করে জেনেছে যে সুদের হার বৃদ্ধির ফলে জাপানের আবাসন ঋণের ব্যয় এবং করপোরেট ঋণ গ্রহণের খরচ দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে পরিবর্তনশীল সুদের হারে আবাসন ঋণ গ্রহণকারী তরুণ পরিবারগুলোর ওপর মাসিক কিস্তির বোঝা বাড়বে, যদিও সঞ্চয়ী আমানতের বিপরীতে সাধারণ নাগরিকরা বর্ধিত মুনাফা পাবেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের দীর্ঘদিনের অতি-নমনীয় আর্থিক নীতি থেকে দ্রুত সরে আসছে।
ব্যাংক অব জাপানের নীতি-নির্ধারণী কমিটির চলতি বছরে আরও দুটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে, যা আগামী অক্টোবর ও ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে
