বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। আন্তর্জাতিক ওয়্যার সার্ভিস ও কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যমতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠাতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না ফিলিস্তিনি নেতারা। আগামী সপ্তাহে বিশ্বনেতাদের এই বার্ষিক সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে ওয়াশিংটন এই ভ্রমণ স্থগিতাদেশ কার্যকর করেছে।

নিউইয়র্কের বৈশ্বিক মঞ্চে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের প্রবেশাধিকার ফের আটকে গেল।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ সংস্কার করতে না পারা এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা বিনষ্টকারী বিভিন্ন তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ বহাল রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, দ্বিপক্ষীয় সরাসরি আলোচনার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে একতরফা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির চেষ্টা চালানো এবং আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করে ফিলিস্তিনি প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন করেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টিকেও সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

জাতিসংঘ সদর দপ্তর সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে নিউইয়র্কে স্থায়ী মিশনের কূটনীতিকদের জন্য এই বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল থাকছে।

ফলে মিশনে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকারী ফিলিস্তিনি কর্মচারীরা তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন, তবে রামাল্লা থেকে কোনো উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি এই সফরে অংশ নিতে পারবেন না। সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল। বিশেষ করে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি জানানোর প্রেক্ষাপটে স্বাধীন ফিলিস্তিন ও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের দাবিকে জোরালো করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

আব্বাসের পূর্বপরিকল্পিত ভাষণে গাজা উপত্যকার চলমান মানবিক বিপর্যয় এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমাগত সহিংসতার বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার কথা ছিল।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার ফলে তাকে হয়তো আবারও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিজের বক্তব্য পাঠাতে হবে, যেমনটি ঘটেছিল আগের বছরেও। ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নেওয়া এই কঠোর ব্যবস্থার সমান্তরালে জাতিসংঘে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের আগমন অব্যাহত রয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বমঞ্চে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জোয়ার যখন জোরদার হচ্ছে, ঠিক তখনই সরাসরি সম্মেলনে যোগদানে এই আইনি বাধা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে।

banner
Link copied!