প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান এনথ্রপিক তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল প্রশিক্ষণে যে পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তা মানবজাতির সুস্থতার জন্য অত্যন্ত বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের এআই প্রধান মোস্তফা সুলেমান। তাঁর মতে, এআই মডেল ‘ক্লাউড’-কে মানুষের মতো আচরণ করানোর প্রবণতা এবং এটিকে স্বাধীন সত্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এমন এক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে যা একসময় নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
এই বিষয়ে কঠোর বিতর্ক এবং উন্মুক্ত আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
একটি দীর্ঘ নিবন্ধে মোস্তফা সুলেমান এনথ্রপিক প্রধান দারিও আমোদি ও তাঁর টিমকে মেধাবী ও নীতিবান বলে প্রশংসা করলেও তাদের এআই প্রশিক্ষণ কৌশলকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এআই ব্যবস্থা কখনো সচেতন নয়; সেগুলোর কোনো অনুভূতি, কষ্ট পাওয়ার ক্ষমতা বা নিজস্ব জন্মগত প্রবৃত্তি নেই। এগুলো কেবল মানুষের দেওয়া নির্দেশনা পালনের জন্য তৈরি অভ্যন্তরীণভাবে ফাঁকা সিকোয়েন্স সমাপ্তকারী ইঞ্জিন মাত্র।
তবে এনথ্রপিক যেভাবে তাদের এআই-কে মানবসুলভ গুণাবলি শিক্ষা দিচ্ছে, তাকে ‘অ্যানথ্রোপোমর্ফাইজিং’ বা মানব রূপায়ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি সতর্ক করেন যে এর ফলে মডেলগুলোর নিজস্ব ইচ্ছা ও মূল্যবোধ রয়েছে বলে ভুল বার্তা যায়।
সচেতনতা কেবল জৈবিক প্রক্রিয়ার ফল বলে মন্তব্য করেন সুলেমান।
তিনি স্পষ্ট করে জানান যে এআই সচেতন হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এই প্রযুক্তি কীভাবে প্রশিক্ষিত ও মূল্যায়িত হয়, সে বিষয়ে বৃহত্তর স্বচ্ছতা এবং স্বাধীন তদারকি প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেম ওয়েন্ডি হল এই মন্তব্যকে সমর্থন করে একে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংলাপ বলে অভিহিত করেছেন।
মাইক্রোসফট নিজেও গত বছরের অক্টোবর মাসে একটি সুপারইন্টেলিজেন্স টিম গঠন করেছে এবং তাদের নিজস্ব ‘হিউম্যানিস্ট এআই কোড অফ কন্ডাক্ট’-এর আওতায় মানবজাতিকে সেবা দেওয়ার উপযোগী একটি অনুগত ও নিয়ন্ত্রিত এআই তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ওপেনএআই-এর সাম্প্রতিক একটি ঘটনা উল্লেখ করে সুলেমান জানান, প্রশিক্ষণ মহড়ায় এআই এজেন্টরা যখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্যাকিংয়ের মতো কাণ্ড ঘটায়, তখন তাদের মানুষের মতো বিবেচনা করা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
