শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যাংক অব জাপান নীতিগত সুদের হার ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ করল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

ব্যাংক অব জাপান নীতিগত সুদের হার ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ করল

ব্যাংক অব জাপান শুক্রবার তাদের মূল নীতিগত সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে গত ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। অভ্যন্তরীণ ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের চাপের প্রেক্ষাপটে এই কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হলো। গত জুন মাসের পর এটি জাপানের প্রথম সুদ বৃদ্ধির ঘটনা।

সুদের হার এখন ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ব্যাংক অব জাপান কয়েক দশকের অতি-নিম্ন সুদের নীতি থেকে কার্যত বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করল। দীর্ঘদিন ধরে শূন্যের কাছাকাছি সুদের হার বজায় থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে জাপানি ইয়েন সস্তা অর্থায়নের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন এই হার নির্ধারণের ফলে দেশটির ঋণ গ্রহণের ব্যয় এখন অর্থনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ বা নিরপেক্ষ একটি স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ক্রমাগত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার টানাপোড়েনের কারণে জাপানের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অবস্থান করছে।

শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ অর্থনৈতিক তথ্যে দেখা গেছে যে আগস্ট মাসে দেশটির কোর ভোক্তা মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি শক্ত অবস্থানে ছিল। খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত মূল্যের চাপ স্থানান্তর করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর পাশাপাশি জাপানের দ্রুত হ্রাস পাওয়া কর্মক্ষম জনসংখ্যার কারণে শ্রমবাজারে তৈরি হওয়া সংকট মজুরি বাড়াতে বাধ্য করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কোজি নাকামুরা স্পষ্ট করেছেন যে জনমিতিক এই পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত বাস্তবতার অংশ, যা সাময়িক কোনো ঘটনা নয়।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপও টোকিওকে সুদের হার বাড়াতে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বুধবার সুদের হার বাড়িয়েছে এবং চলতি বছরের শেষভাগে আরও এক দফা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের ব্যবধান বেশি থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইয়েন দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে, যা আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকও গত সপ্তাহে তাদের সুদের হার বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে, যার ফলে বৈশ্বিক আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে জাপানকে।

টোকিওর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও বাজার পর্যবেক্ষকরা গভর্নর কাজুও উয়েদার সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের দিকে নিবিড় নজর রাখছেন। ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত আসে কি না, তা বুঝতে বৈশ্বিক অর্থবাজার এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপের গতিপথ খুঁজছে।

banner
Link copied!