শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

স্টেট দুমার নির্বাচনে পুতিনের দলের আধিপত্য ধরে রাখার লড়াই

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

স্টেট দুমার নির্বাচনে পুতিনের দলের আধিপত্য ধরে রাখার লড়াই

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার নির্বাচনে শুক্রবার থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা টানা তিন দিন ধরে চলবে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে এটিই প্রথম সাধারণ পার্লামেন্টারি নির্বাচন। দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক মন্থরগতি এবং তেল শোধনাগারগুলোতে ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যেই সাধারণ রুশ নাগরিকরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন চলছে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া সহজ ও ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবার তিন দিনব্যাপী ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোট ১১ কোটি ১০ লাখ ভোটারের জন্য ভোটকেন্দ্রের পাশাপাশি দূরবর্তী ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। স্টেট দুমার মোট ৪৫০টি আসনের পাশাপাশি ১১টি অঞ্চলের গভর্নর এবং ৩৯টি অঞ্চলের স্থানীয় আইনসভার প্রতিনিধি নির্বাচনেও ভোট চলছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ৪৫০ আসনের অর্ধেক দলীয় তালিকার ভিত্তিতে এবং বাকি অর্ধেক একক নির্বাচনী এলাকার প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। ইউক্রেনের যেসব এলাকা বর্তমানে রুশ সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানেও এই নির্বাচনের কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সমর্থিত ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়া গত ২০২১ সালের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়েছিল। এবারও পার্লামেন্টে নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার শক্ত অবস্থানে রয়েছে দলটি, যার আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বে আছেন নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। দলটির প্রার্থী তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে, যিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইসঙ্গে মস্কোর প্রভাবশালী মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আহত সাংবাদিক ইয়েভজেনি পোদ্দুবনিকে তালিকায় যুক্ত করে আমলাতান্ত্রিক ভাবমূর্তি বদলানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। দলের প্রতিটি প্রার্থী ক্রেমলিনের সামরিক অভিযানকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠে নেমেছেন।

নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের উপস্থিতি কার্যত সরকার অনুমোদিত কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। একমাত্র যুদ্ধবিরোধী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ইয়াবলোকোকে দলীয় তালিকায় লড়ার সুযোগ দেয়নি রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে আগস্ট মাসেই তাদের তালিকাভুক্ত প্রার্থিতা বাতিল করা হয়, যার ফলে তারা কেবল কয়েকটি একক আসনে স্বতন্ত্র ধাঁচে লড়াই করছে। অন্যদিকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে ৮২ বছর বয়সী সাবেক সোভিয়েত কর্মকর্তা গেন্নাদি জিউগানোভের নেতৃত্বে থাকা কমিউনিস্ট পার্টি মূল প্রতিযোগী হিসেবে মাঠে রয়েছে। দলটি সরকারি কিছু নীতির সমালোচনা করলেও পুতিনের সরাসরি বিরোধিতায় যায়নি এবং সামরিক অভিযানের পক্ষে অবিচল সমর্থন বজায় রেখেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচনে কমিউনিস্টরা দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখতে পারলে তা নাগরিকদের অর্থনৈতিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

উগ্র জাতীয়তাবাদী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক দল আ জাস্ট রাশিয়া পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ভোটারদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে। তবে তরুণ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা নিউ পিপল পার্টি। দলটির সঙ্গে ক্রেমলিনের প্রযুক্তিবিদ অংশের পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে বলে মনে করা হয় এবং যুদ্ধবিরোধী নাগরিকরা ইয়াবলোকোর অনুপস্থিতিতে এই দলকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিতে পারেন। এর বাইরে গ্রিন পার্টি, পেনশনভোগীদের দল ও প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র দলের মতো ছোট কয়েকটি গোষ্ঠী নির্বাচনী ব্যালটে রয়েছে।

ভ্লাদিমির পুতিন গত আগস্টে দলীয় সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় এই নির্বাচনকে সরাসরি সামরিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে দলের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করা। অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও আঞ্চলিক সংকটের মুখে রাশিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হয়, আন্তর্জাতিক মহল এখন সেদিকেই নজর রাখছে।

banner
Link copied!