শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়ায় ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ পর্যটকদের আটকের ঘোষণা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

অস্ট্রেলিয়ায় ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ পর্যটকদের আটকের ঘোষণা

অস্ট্রেলিয়ায় ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের অবিলম্বে আটক করার কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। জাতীয় প্রেস ক্লাবে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ কার্যকর করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে বৈধ অনুমতি ছাড়া দেশে বসবাসের ক্ষেত্রে পূর্বের মতো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

অবৈধভাবে অবস্থানের বিরুদ্ধে কড়া আইনি প্রতিক্রিয়া ফিরছে।

এই নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্সে অতিরিক্ত ১০০ জন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাস করছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের রাখার সুবিধার্থে মেলবোর্নের একটি সাবেক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে ২৫০টি নতুন শয্যা প্রস্তুত করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের পূর্বে অস্ট্রেলিয়ায় এমন ব্যবস্থা কার্যকর ছিল যেখানে মেয়াদোত্তীর্ণদের আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারা নিজস্ব খরচে নিজ দেশে ফিরে যেতেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা অভিযানের সাথে এই উদ্যোগের তুলনাকে তিনি সরাসরি নাকচ করে দেন।

এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার প্রচলিত সুযোগ বা ভিসা হপিং বন্ধেও কঠোর বিধিনিষেধ আসছে। নতুন বিধান অনুসারে পর্যটন ভিসায় আগত ব্যক্তিরা দেশটির ভেতরে অবস্থানকালীন নতুন কোনো ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের কোর্সে ভর্তি হয়ে অবস্থান দীর্ঘায়িত করার পথ বন্ধ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ভিসার জন্য অবশ্যই উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার কোর্সে ভর্তি হতে হবে। এছাড়া অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে আশ্রয়ের আবেদন জানিয়ে অবস্থান দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা রুখতে পৃথক আইন প্রণয়ন করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

সরকারি এই কড়াকড়ির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে দেশটির মানবাধিকার সংস্থাগুলো। হিউম্যান রাইটস ল সেন্টার এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, এমন অভিযান শুরু হলে কর্মক্ষেত্রে শারীরিক বা আর্থিক শোষণের শিকার অনথিভুক্ত শ্রমিকরা প্রতিকার চাইতে ভয় পাবেন। এদিকে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে যে ডানপন্থী ওয়ান নেশন পার্টির জনপ্রিয়তা সামাল দিতেই এই রক্ষণশীল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের সাথে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবের সম্পর্ক নেই।

আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর অর্থনৈতিকভাবে অনেকাংশেই নির্ভরশীল অস্ট্রেলিয়া। তা সত্ত্বেও ২০১৬ সালে যেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ অভিবাসীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৪ হাজার, ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৭৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সামগ্রিক নেট অভিবাসন আগের তুলনায় কমলেও অবৈধ অবস্থানের এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কড়া অবস্থান ধরে রাখার ঘোষণা দিয়েছে ক্যানবেরা।

banner
Link copied!