শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা

রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আইনে ট্রাম্পের সই

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আইনে ট্রাম্পের সই

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যয়ভার বাড়াতে একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিদলীয় সমর্থনে কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর শুক্রবার হোয়াইট হাউসে বিলটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে প্রণীত এই আইনে মস্কোর বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের পাশাপাশি তাদের শীর্ষ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

রুশ তেল ক্রেতাদের ওপর শতভাগ শুল্কের ঝুঁকি তৈরি হলো।

আইনটির আওতায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শিল্পপতিদের লক্ষ্য করে সম্পদ জব্দসহ নানা পদক্ষেপের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রুশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত গোপন বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ধারা অনুযায়ী, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক বসাতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মস্কো থেকে জ্বালানি আমদানিতে শীর্ষে থাকা চীন ও ভারত এই পদক্ষেপের সরাসরি মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমদানি শুল্কের আইনি এখতিয়ার এখন রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে।

কংগ্রেসে দীর্ঘ বিতর্কের পর আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। গত মাসে সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়ার পর প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে এটি অনুমোদন লাভ করে, যেখানে ৫৮ জন বিরোধী ডেমোক্র্যাট সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে পক্ষে ভোট দেন। এর মধ্য দিয়ে দুই বছরেরও বেশি সময় পর ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে মার্কিন পার্লামেন্টে বড় কোনো বিল পাস হলো। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই আইনি উদ্যোগকে যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন। হাউস স্পিকার মাইক জনসন জানান যে এই ব্যবস্থা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সামর্থ্যের ওপর সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক চাপ সৃষ্টি করবে।

সব মার্কিন আইনপ্রণেতা অবশ্য এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারেননি।

প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু দলীয় নেতা হাকিম জেফ্রিজ এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে যুক্তি দেন যে প্রেসিডেন্টের হাতে অবাধ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে। অন্যদিকে নতুন এই শুল্কের ঝুঁকির প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের একশ চল্লিশ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখাই তাদের প্রধান রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার। রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানের জ্বালানি ও অস্ত্র খাতের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও এই আইনের মাধ্যমে বাড়ানো হয়েছে। এমন এক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নতুন আইনে স্বাক্ষর করলেন, যার মাত্র এক সপ্তাহ পরেই হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার পূর্বনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

banner
Link copied!