শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্তর কোরিয়ার সাথে ট্রাম্পের সংলাপ চান দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

উত্তর কোরিয়ার সাথে ট্রাম্পের সংলাপ চান দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মায়ুং শুক্রবার সিউলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সাথে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে আগ্রহী। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে তিনি স্পষ্ট করেন, অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে এই সংলাপ অসম্ভব নয়। একই সাথে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে পারস্য উপসাগরের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিজের সামরিক বাহিনীকে জড়াবে না সিউল।

দুই কোরিয়ার সংলাপের চেয়ে মার্কিন বৈঠক শুরু সহজ হবে।

সিউল বর্তমানে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগের পরিবেশ তৈরিতে প্রাথমিক সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে চলতি বছরের শেষের দিকে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে বর্তমানে ৫৭টি অতি শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক গোয়েন্দা তথ্যে এই সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০টি ওয়ারহেড বলে ধারণা করা হয়। মস্কোর পক্ষ থেকে জোরালো সমর্থন পাওয়া উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের এই প্রস্তাবের কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়নি।

কোরীয় উপদ্বীপের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক জটিলতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। ২০১৮ সালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা ইতিবাচক ধারা তৈরি হলেও ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই পক্ষের শীর্ষ বৈঠক ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উত্তেজনা কমেনি। সম্প্রতি সিউলের একটি স্থানীয় আদালত ২০২০ সালে কায়েসং শহরের যৌথ লিয়াজোঁ অফিস উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার মধ্য এশিয়ার পাঁচটি রাষ্ট্রের সাথে প্রথমবারের মতো সফল শীর্ষ সম্মেলন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া, যার লক্ষ্য ছিল মস্কোর প্রভাব বলয়ের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোটের অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে কোনো সৈন্য মোতায়েন না করার বিষয়ে নিজের অবস্থান অত্যন্ত কঠোরভাবে তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট লি। তিনি ঘোষণা করেন যে বিদেশে কোনো ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পৃক্ত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক সম্পদ যুক্ত করার আশঙ্কায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রবল জনবিক্ষোভ দেখা গেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ সামাল দিতে প্রশাসনকে নিজেদের সামরিক নীতি নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়া শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক নৌপথে নিজেদের বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ ও জ্বালানি তেল পরিবহনের পথ নিরাপদ রাখতে সীমিত কার্যক্রম বজায় রাখবে। কোনো সামরিক আগ্রাসন বা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে নিজেদের জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষাই সিউলের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

banner
Link copied!