শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধাপরাধের তদন্ত

বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা‍‍`: সিরিয়ায় সাবেক পাইলট আটক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা‍‍`: সিরিয়ায় সাবেক পাইলট আটক

সিরিয়ায় আসাদ আমলের সামরিক বাহিনীর পাঁচ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বেসামরিক মানুষের ওপর বিমান হামলা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ক্ষমতাচ্যুত শাসক বাশার আল আসাদের শাসনামলে জনবহুল এলাকায় বোমাবর্ষণ পরিচালনার সাথে তারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। শুক্রবার দেশটির উপকূলীয় তারতুস প্রদেশে সন্ত্রাস দমন পরিদপ্তরের সহযোগিতায় পরিচালিত এক সমন্বিত অভিযানে এই সাবেক কর্মকর্তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন এয়ারফোর্স জেনারেলও রয়েছেন।

তারতুস প্রদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান কর্নেল আব্দুল আল মোহাম্মদ আব্দুল আল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান যে আটক ব্যক্তিরা সামরিক বিমানঘাঁটি ও ফিল্ড কমান্ড সেন্টার ব্যবহার করে বেসামরিক এলাকায় তীব্র বিমান হামলা চালানোর কাজে যুক্ত ছিলেন। সামরিক নথিপত্র ও তদন্তে দেখা গেছে যে তারা বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কমান্ড প্রদান এবং সরাসরি অভিযানে ভূমিকা রেখেছেন। গ্রেপ্তারকৃত কর্মকর্তাদের পরিচয় প্রকাশ করেছে প্রশাসন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ফজর আলী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পাইলট আব্দুল্লাহ আলী মুয়াল্লা, কর্নেল পাইলট নিদাল হোসেন সালেহ, কর্নেল মোহাম্মদ আলী সালিম এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল পাইলট তালিব আব্দুল করিম হাসান।

আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে চালানো ওইসব হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছিল।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিবরণ অনুযায়ী, সাবেক সরকারের নির্দেশে চালানো এসব সামরিক অভিযানে বহু আবাসিক এলাকা ও নাগরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং লাখ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হন। নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে অভিযুক্তদের সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার পূর্বে তদন্ত দল তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আরও খতিয়ে দেখছে। তেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যেখানে সরকারি বাহিনীর বিমান ও কামান হামলাই বেশিরভাগ ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী ছিল বলে বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিচার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে লাতাকিয়া প্রদেশেও একই ধরনের অভিযোগে নয়জন সাবেক পাইলটকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে তিনজন উচ্চপদস্থ জেনারেল ছিলেন। এর আগে গত আগস্ট মাসে যুদ্ধাপরাধ ও সাধারণ মানুষের ওপর নৃশংসতা চালানোর দায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ, তার ভাই মাহের আল আসাদ এবং শীর্ষ পাঁচ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে তাদের অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন সিরিয়ার আদালত। দামেস্ক থেকে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাশার আল আসাদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।

banner
Link copied!