শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ত্র ও সৈন্য ঘাটতি

সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতিতে ইসরায়েলি বাহিনী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম

সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতিতে ইসরায়েলি বাহিনী

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে সৈন্য এবং নির্দিষ্ট কিছু সমরাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিগত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জেরে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী মারাত্মক লজিস্টিক ও জনবল সংকটের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে মার্কিন প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে অত্যাধুনিক আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার কেনার একটি বড় চুক্তিও বাজেটের অভাবে ভেস্তে গেছে।

বিশ্বের অন্যতম সেরা অর্থায়নপ্রাপ্ত বাহিনী হিসেবে পরিচিত এই সামরিক শক্তি কি তবে বাস্তবিকই সংকটে রয়েছে?

ইসরায়েলি সংবাদপত্র মারিভের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া কর্মী বাহক বা এপিসি নেই। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা একটানা যুদ্ধের কারণে সামরিক যানবাহনগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। সংবাদপত্রে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও অর্থমন্ত্রীর নীতিগত অবস্থানের কারণে সেনাবাহিনীতে প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা সামগ্রিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে দুর্বল করে তুলছে।

বাজেট সংকটের কারণে বড় ধরনের সামরিক চুক্তিও হাতছাড়া হয়েছে।

ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভের তথ্যমতে, মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বারোটি অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ক্রয়ের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। সেনাবাহিনীর প্রকিউরমেন্ট বা সংগ্রহ বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি থাকার কারণেই এই চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের সঙ্গে সামরিক বাজেট বৃদ্ধির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

সেনাবাহিনী নীতিনির্ধারকদের কাছে আগেই কঠোর সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল।

চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থায়ন দ্রুত ছাড় না করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া যানগুলোকে আবার যুদ্ধোপযোগী করার সমস্ত কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে দেশের ভেতর নির্দিষ্ট কিছু গোলাবারুদ উৎপাদনের ধারাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সৈন্যদের ছুটি বাতিল করার মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সামরিক নেতৃত্ব।

যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রিতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দলের ফলে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দেশটির ভেতরেই বহুমুখী প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

banner
Link copied!