যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো কূটনৈতিক আলোচনায় বসার আগে রণক্ষেত্রে পূর্ণ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, শত্রুকে সরাসরি পিছু হটতে বাধ্য করা এবং সামরিক আঘাত নিশ্চিত করাই তেহরানের প্রধান লক্ষ্য। ওয়াশিংটনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দরকষাকষিতে যাওয়ার আগেই নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতে চায় দেশটি।
যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকেই পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে তেহরান।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই নিশ্চিত করেছেন, সংঘাত নিরসনে আলোচনা পুনরায় শুরু করার সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই বার্তা পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনকে তাগিদ দিয়েছে দেশটি। সামরিক সংঘাতের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার সমান্তরালে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করছে ইরানি নেতৃত্ব।
চলমান এই আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের আওতাধীন একটি ফরাসি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র সিলগালা করেছে স্থানীয় বিচার বিভাগ। অনুমতিপত্র না থাকা, ইরানি সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ করা এবং দেশ থেকে দক্ষ নাগরিক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এটি বন্ধ করা হয়। এর আগে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কূটনৈতিক বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে উভয় দেশের মধ্যে।
এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবকে তুরস্কের সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইবনে হালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইসমাইল নুমান তেলসি জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন প্রতিরোধ, নজরদারি রাডার এবং নৌ-নিরাপত্তায় আঙ্কারার সক্ষমতা রিয়াদের কাজে আসতে পারে। পাশাপাশি তেহরানের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুবিধা কাজে লাগিয়ে যুদ্ধ প্রশমনে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে তুরস্কের। তবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকরে এখনও সংসদীয় অনুমোদনের আইনি প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হুতিদের ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিয়াদ, তায়েফ এবং ইয়ানবুতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আঘাতের চেষ্টাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সৌদি আরবের যেকোনো পদক্ষেপে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে দোহা।
