ইরানের অর্থনীতিতে সংঘাতের সরাসরি প্রভাব হিসেবে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত পারস্য বর্ষপঞ্জির প্রথম প্রান্তিকে সামগ্রিক মোট দেশজ উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান কেন্দ্রের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রধান রাজস্ব উৎস জ্বালানি খাতে আঘাত আসায় এই সংকোচন ঘটেছে।
তেল খাতে বিপর্যয় সবচেয়ে গভীর।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। তবে তেল খাত বাদ দিয়ে হিসাব করলে অর্থনীতির অন্যান্য অংশে সংকোচনের হার তুলনামূলক কম, যা প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। জ্বালানি ছাড়াও শিল্প ও খনিজ খাতে উৎপাদন কমেছে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ, সেবা খাতে সংকোচন হয়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রস্তুতকারক শিল্পে উৎপাদন কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে এই সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখিয়েছে কৃষি খাত, যেখানে ২ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
পরিস্থিতি কেবল প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। চলতি মাসে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১২ মাসের গড় হিসেবে দেশটিতে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পানীয় ও তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রে এই দাম বৃদ্ধির হার ছিল সাধারণ হারের প্রায় দ্বিগুণ।
বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম অবলম্বন তেল রপ্তানিতে বাধা আসার পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের ধারাবাহিক দরপতন তেহরানের বাজার পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। একইসঙ্গে বসন্তকালীন প্রান্তিকে সরকারি হিসাবে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশে। অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থবিরতার কারণে সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
