কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডেসকে লন্ডনের একটি বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসি এলাকায় তাঁর বাসভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যু অপ্রত্যাশিত হলেও এর পেছনে কোনো সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কারণ নেই বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
একচল্লিশ বছর বয়সী জেসন আরডেস ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে আলোচিত একটি প্লাজিয়ারিজম বা চৌর্যবৃত্তির বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি কেমব্রিজের সমাজবিজ্ঞান ও শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক পদ থেকে সরে দাঁড়ান। পদত্যাগপত্রে তিনি তীব্র জনসমালোচনা ও মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, গত তিন বছর ধরে চলা একটি সমন্বিত অপপ্রচার ও হয়রানির কারণে তিনি চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন।
পরিবারের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই মিথ্যা প্রচার ও হয়রানির চাপ জেসন আরডেসের জন্য সহ্য করার সীমার বাইরে চলে গিয়েছিল। তিনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং সবসময় সবার মধ্যে ভালো দিকটি খোঁজার চেষ্টা করতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন। প্রকাশক সাইমন অ্যান্ড শুস্টার ইউকে-র মাধ্যমে এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডেবোরাহ প্রেন্টিস এই মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এই দুঃসংবাদে অত্যন্ত মর্মাহত এবং তারা নিহতের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে। এর আগে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছিল যে জেসন আরডেসের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্মানসূচক পদবি সংক্রান্ত নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তারা একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েল এবং লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এই ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। মেয়র সাদিক খান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জেসন আরডেস অন্যায্য ও তীব্র জনরোষের শিকার হয়েছেন। তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যু সবার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। দেশটির শিক্ষক ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
