শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাশিয়ার রকেট কেন্দ্রে ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

রাশিয়ার রকেট কেন্দ্রে ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ভেতরে অত্যন্ত গভীর ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সামরিক অবস্থানে দীর্ঘপাল্লার ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সামরিক বাহিনী নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের একটি সামরিক বিমানঘাঁটি এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সহায়ক রকেট কেন্দ্রে এই সফল আঘাত হেনেছে। যুদ্ধের তীব্রতা যখন নতুন মোড় নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে কিয়েভের এই দীর্ঘপাল্লার সামরিক পদক্ষেপ মস্কোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিতে তৈরি ফ্ল্যামিংগো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের অধীনস্থ প্রোগ্রেস সেন্টার রকেট ফ্যাসিলিটিতে আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনীয় সীমান্ত থেকে প্রায় নয়শ কিলোমিটার বা পাঁচশ ষাট মাইল দূরে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। রকেট প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের এই সুনির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনাটি মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বজায় রাখতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

এছাড়াও ইউক্রেনীয় বাহিনী ইউক্রেনীয় সীমান্ত থেকে প্রায় সাতশ কিলোমিটার বা চারশ ত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত সাবাসলেইকা বিমান ঘাঁটিতেও সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এই সামরিক স্থাপনাগুলো সরাসরি রুশ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিয়েভ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে রাশিয়াকে এই যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী ও বাস্তব অর্থনৈতিক ও সামরিক মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য করার অংশ হিসেবেই এই সুনির্দিষ্ট দূরপাল্লার হামলাগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের এই বর্ধিত উত্তেজনার পাশাপাশি মস্কো কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। তুরস্কের হাতে থাকা মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার কিয়েভে স্থানান্তরের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়া ইতিমধ্যে ওয়াশিংটন এবং আঙ্কারার কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট অবস্থান দাবি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, ন্যাটো সদস্য দেশের মাধ্যমে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে নতুন ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন যে রাশিয়ার আগ্রাসী যুদ্ধ সক্ষমতা হ্রাস করাই তাদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের মূল লক্ষ্য। সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মস্কোর ভেতরে সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি অনিবার্য বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে রুশ সামরিক কতৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জোরদার করার দাবি করলেও কিয়েভের এই প্রযুক্তিনির্ভর দীর্ঘপাল্লার আক্রমণগুলো ক্রেমলিনের কৌশলগত পরিকল্পনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। দুই দেশের চলমান এই সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতে আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

banner
Link copied!