রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

জুনের চুক্তির পর লেবাননে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা চালাল ইসরায়েল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ১৫, ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

জুনের চুক্তির পর লেবাননে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা চালাল ইসরায়েল

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধারাবাহিক হামলায় কমপক্ষে এগারো জন নিহত এবং আরও উনিশ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত জুন মাসে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি ও সীমিত চুক্তির পর এটিই এই অঞ্চলে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।

শনিবার ভোরে নাবাতেহ জেলার আনসার এবং দেইর ইজ-জাহরানি এলাকায় আকস্মিক বিমান হামলা চালানো হয়। আনসার এলাকায় সংঘটিত হামলায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত এবং দুজন আহত হন। এছাড়া দেইর ইজ-জাহরানিতে চালানো পৃথক হামলায় চারজন নিহত ও সতেরো জন আহত হয়েছেন। আল জাজিরার সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পূর্বে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বলে মনে করা হতো, ফলে এই আকস্মিক সহিংসতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে নাবাতেহ ও আনসার এলাকায় হিজবুলের অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। আলি আল-তাহের রিজ এলাকায় ইসরায়েলি সৈন্যদের বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তেলআবিব দাবি করেছে। তবে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম ইসরায়েলের এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এই তীব্র সামরিক উত্তেজনাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে এটি দক্ষিণ লেবাননে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউনও এই অব্যাহত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন এবং যুদ্ধবিরতি কাঠামোর স্পষ্ট লঙ্ঘন করছে ইসরায়েল। অন্যদিকে লেবাননের সংসদ স্পিকার নাবিহ বেরি এই ঘটনাকে একটি মর্মান্তিক গণহত্যা এবং উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেছেন।

এই ঘটনার পর হিজবুলের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে লেবানন সরকারকে মার্কিন মধ্যস্থতার ওপর নির্ভরতা ত্যাগ করার এবং তথাকথিত অপমানজনক প্রত্যক্ষ আলোচনা পরিহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি মূলত লেবাননের সার্বভৌমত্বের চেয়ে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় বেশি তৎপর। ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যথাযথ ও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা এবং পরবর্তীতে লেবানন-ইসরায়েল কাঠামোগত চুক্তির পর দক্ষিণ লেবাননে সামরিক সংঘাত কিছুমাত্রায় হ্রাস পেয়েছিল। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সীমান্ত এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ ও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক এই রক্তক্ষয়ী হামলার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ লেবাননে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

banner
Link copied!