নেদারল্যান্ডসের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এবিআরওটিআরওএস সোমবার ঘোষণা করেছে যে তারা আগামী বছর ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না, আল জাজিরা ও রয়টার্স জানিয়েছে। গাজার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক বিভাজনের কারণে এই আয়োজন আর নিরপেক্ষ বলে গণ্য করা যায় না বলে জানিয়েছে ডাচ কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এই প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষ চরিত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবিআরওটিআরওএসের প্রধান নির্বাহী টাকো জিমারম্যান এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতা বর্তমানে বিভাজনের একটি মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ইউরোপীয় সম্প্রচার ইউনিয়ন সম্প্রতি সশস্ত্র সংঘাতে জড়িত দেশগুলোর জন্য আয়োজক হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও, ডাচ সম্প্রচার মাধ্যমটি মনে করে এই পদক্ষেপ প্রতিযোগিতার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট নয়। এর আগে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাতেও নেদারল্যান্ডস অংশ নেয়নি।
গত মে মাসে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বুলগেরিয়ার শিল্পী দারিনা ইয়তোভা বিজয়ী হওয়ার সুবাদে আগামী ২০২৭ সালের পনেরোই মে প্রতিযোগিতার একাত্তরতম আসর বসবে বুলগেরিয়ার কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী শহর বুর্গাসে। তবে গত দুই বছর ধরে ইসরায়েলের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র মতবিরোধ ও বয়কটের ঘটনা ঘটে চলেছে, তা থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো লক্ষণ দেখছে না ডাচ কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক সংকট এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধের বিষয়গুলো এই বয়কটের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
চলতি বছরের প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে নেদারল্যান্ডস ছাড়াও আয়ারল্যান্ড, স্পেন, স্লোভেনিয়া এবং আইসল্যান্ডের মতো দেশগুলো বর্জন বা সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ রেখেছিল। এর ফলে টেলিভিশন দর্শকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছিল। এবিআরওটিআরওএস জানিয়েছে যে নেদারল্যান্ডসের ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণের বিষয়টি এখন দেশটির জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা এনপিও নির্ধারণ করবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ডাচ গণমাধ্যমের এই অনমনীয় অবস্থান ইউরোপের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
