সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

গিনির রাজধানীতে ময়লার পাহাড় ধসে ত্রিশ জনের প্রাণহানি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

গিনির রাজধানীতে ময়লার পাহাড় ধসে ত্রিশ জনের প্রাণহানি

গিনির রাজধানী কনাক্রিতে ভারী বৃষ্টির কারণে একটি বিশাল ময়লার স্তূপ ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত ত্রিশ জন নিহত হয়েছেন বলে এএফপি এবং রয়টার্স জানিয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে কনাক্রির প্রধান দার এস সালাম উন্মুক্ত ভাগাড়ের একটি সুউচ্চ ময়লার পাহাড় ধসে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। রাতের টানা ভারী বৃষ্টির কারণে ভাগাড়ের মাটি ও বর্জ্য সম্পূর্ণ নরম হয়ে এই মারাত্মক ভূমিধসের সৃষ্টি করে। আকস্মিক এই ধসের ফলে আশপাশের জনবহুল এলাকার দরিদ্র মানুষের বসতি ও অস্থায়ী টিনের ঘরগুলো টনকে টন বর্জ্য ও কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষের বসতি এই প্রধান ডাম্পিং গ্রাউন্ডটি মূলত রোববারই আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার কথা ছিল। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনেক পরিবার রয়ে গিয়েছিল কারণ তাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে টেরিটোরিয়াল প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে অবশিষ্ট পরিবারগুলোকে দ্রুত অন্যত্রে সরিয়ে নেওয়া হবে। উদ্ধারকর্মীরা ভারী এক্সকাভেটর, খননযন্ত্র এবং খালি হাতে ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে মৃতদেহ ও জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্জ্যের পাহাড় এবং জমে থাকা কাদামাটির কারণে উদ্ধারকর্মীদের কাজ চালাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে বলে জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বক্সাইট ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের মজুদ থাকা সত্ত্বেও গিনি পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনো জাতীয় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতে বাধ্য হন। দ্রুত বর্ধমান শহুরে জনসংখ্যা এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাগাড়ের পাশেই বসতি গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের ভূমিধস ও বন্যার আশঙ্কা করা হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বজন হারানো মানুষের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বেঁচে যাওয়া মানুষেরা জানিয়েছেন যে ঘটনার সময় বেশিরভাগ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় তারা পালানোর কোনো সুযোগই পাননি। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই বিপজ্জনক ডাম্পিং গ্রাউন্ডটি দ্রুত অপসারণ করা হোক এবং রাজধানী কনাক্রির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ করা হোক।

banner
Link copied!