আঞ্চলিক সংঘাতের নয় মাস পার হলেও সৌদি আরবের সামুদ্রিক ও লজিস্টিকস খাত বাণিজ্য ব্যাহত না করে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। চলমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও লোহিত সাগরের বন্দরগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ পণ্য হ্যান্ডেল করা হচ্ছে।
জেদ্দায় অনুষ্ঠিত সৌদি মেরিটাইম অ্যান্ড লজিস্টিকস কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুধবার এবিএসএ আল বারাক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অক্ষয় আনন্দ বলেন যে দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সুবিধাজনক এবং এর একাধিক দিকে সমুদ্র রয়েছে।
লজিস্টিকসের দিক থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদের দুই পাশেই সমুদ্র দিয়ে ধন্য করেছেন বলে উল্লেখ করেন আনন্দ। তিনি বলেন হরমুজ প্রণালী যখন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, তখন লোহিত সাগর খোলা ছিল। বিগত বছরগুলোতে লোহিত সাগরে কিছু সমস্যা থাকলেও পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে এবং প্রচুর পণ্য এর মাধ্যমে যাতায়াত শুরু করেছে।
তবে এই জলপথের দক্ষিণ প্রবেশপথে বর্তমানে চাপ তৈরি হয়েছে। আনন্দ জানান বাব আল মান্দাবের আশপাশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এত বাধা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ বন্দরগুলোর মাধ্যমে পণ্য চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এই চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশের পরিবহন নেটওয়ার্ককে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে অভিহিত করেন। জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনীতি বৈচিত্র্যময় করার সৌদি ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ইয়েমেনে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করা জোটের পক্ষ থেকে একটি ঘোষণা আসার সঙ্গেই এই মন্তব্যগুলো মিলে যায়। জোট জানিয়েছে যে বুধবার মদিনা ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে হুথি মিলিশিয়ার ছোড়া বিস্ফোরকভর্তি পাঁচটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল মালিকি জানান এতে কোনো বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়নি বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি এই হামলাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। আরবি ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে পরবর্তীতে জানানো হয় রিয়াদের ওপর দিয়ে একটি ব্যালেস্টিক মিসাইলও প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য বুধবার পুনরায় চালু হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর টার্মিনাল কমপ্লেক্সে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর এটি বন্ধ ছিল।
সৌদিয়া ও ফ্লাইনাসের মতো বিমান সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। তবে লুফথানসা এবং এয়ার ফ্রান্স মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে তাদের ফ্লাইট বাতিল রেখেছে।
জেদ্দায় আয়োজিত লজিস্টিকস সম্মেলনকে দেশের সামগ্রিক দৃঢ়তার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন আনন্দ। তিনি বলেন সমস্ত সমস্যার পরও সৌদি আরবে এই মাত্রার একটি অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজন করতে পারা আমাদের জাতীয় স্থিতিস্থাপকতারই প্রমাণ।
উদ্বোধনী প্যানেল আলোচনায় আনন্দ বলেন যে বিশ্ব বাণিজ্য থেমে থাকে না বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়। বর্তমানে তুরস্ক থেকে সিরিয়া হয়ে সৌদিতে পণ্য পৌঁছানোর উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান বিশ্ববাণিজ্য যেকোনো বাধা উপেক্ষা করেই চলতে বাধ্য এবং ঠিক তাই ঘটছে।
বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ার আর্থিক বোঝা সাপ্লাই চেইনের সব পক্ষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান আনন্দ। তিনি বলেন কোনো দুর্বল পক্ষের ওপর খরচ চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়, বরং সবার মধ্যে তা ভাগ করে নিতে হবে। এ সময় তিনি আধুনিক চুক্তি কাঠামো এবং সালিশি প্যানেল গঠনের পক্ষে মত দেন। জেদ্দা সুপারডোমে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হয় বৃহস্পতিবার।
