মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কায়রোতে পৌঁছেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কায়রোতে অবস্থিত জাতিসংঘ কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সংলাপের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ও আরব লীগের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও একমত হয়েছেন দুই নেতা।
সফরের অংশ হিসেবে মিশরে নিয়োজিত জাতিসংঘের কান্ট্রি টিম এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গুতেরেস। এসব বৈঠকে মিশরীয় সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের চলমান কার্যক্রম এবং গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকেই গাজা উপত্যকা ছেড়ে আসা অনেক ফিলিস্তিনি মিশরে আশ্রয় নিয়েছেন, যার মধ্যে আহত ও চিকিৎসাধীন রোগীরাও রয়েছেন। এছাড়া ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে পালিয়ে আসা সুদানি শরণার্থীদেরও আশ্রয় দিয়ে আসছে দেশটি।
ইউনিসেফের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারি প্রাক্কলন বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি সুদানি মিশরে প্রবেশ করেছেন। এর আগে থেকেই দেশটিতে প্রায় ৫০ লাখ সুদানি নাগরিক বসবাস করছিলেন। তবে মিশরে প্রবেশ করা ফিলিস্তিনিদের মোট সংখ্যা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘ মহাসচিবের এই কূটনৈতিক তৎপরতার মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা প্রশমন করা। মিশরসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস জানান, যুদ্ধের পরিধি বিস্তার রোধ করার জোরালো বার্তা নিয়েই তিনি এই সফরে এসেছেন। একইসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কূটনীতি ও শান্তির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন।
গুতেরেস লিখেছেন যে সমাজের ভেতরের বৈষম্যগুলো দূর করার পাশাপাশি সেই সংঘাতগুলো বন্ধ করতে হবে, যা মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে এবং একটি অসম বিশ্বকে আরও বেশি দূরে ঠেলে দিচ্ছে।
এর আগে গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন জাতিসংঘ প্রধান ও আরব লীগ সচিব। সে সময়কার আলোচনায় আরব অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌচলাচল, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রসঙ্গগুলোও উঠে এসেছিল।
