বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

সোমালিয়ায় বন্যা

সোমালিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় আট লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা: জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৬:৩০ এএম

সোমালিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় আট লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা: জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

আসন্ন ভয়াবহ বন্যার কারণে সোমালিয়ায় আগামী তিন মাসে আট লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। গত বুধবার জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।

সোমালিয়ায় এমন এক বর্ষাকাল শুরু হয়েছে যেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে।

জাতিসংঘের ওই সংস্থা এবং ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিলের নতুন প্রাক্কলন অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৮৭৪,৩১৯ জন মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন। এর মধ্যে শুধু বন্যার কারণে ৯২ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে।

সোমালিয়ায় সংস্থার মিশন প্রধান ম্যানুয়েল মার্কেস পেরেইরা জিনভা থেকে আসন্ন এই সংকট নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পেরেইরা আরও যোগ করেন যে এই পরিবারগুলোর অনেকেই এর আগেও বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছেন এবং তাদের আর তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই।

পেরেইরা বলেন, ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি, তবে সেই সুযোগ দ্রুত কমে আসছে। বাড়িঘর ও জীবিকা রক্ষা করতে, প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছাতে এবং বাস্তুচ্যুতির নতুন চক্র এড়াতে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে তহবিল দরকার।

অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, এল নিনো সম্পর্কিত বন্যার যথাযথ প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১৬৬.২ মিলিয়ন ডলারের মাত্র ১৪ শতাংশ তারা সংগ্রহ করতে পেরেছে।

অঞ্চলটিতে ইতিমধ্যে এই দুর্যোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছে। নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং তীব্র বৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাড়তে থাকা বন্যার পানি শুধু আবাসিক এলাকাই হুমকির মুখে ফেলছে না। এই আকস্মিক বন্যা ফসল ধ্বংস করতে পারে, পানীয় জলের উৎস দূষিত করতে পারে এবং জরুরি সেবাসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

ক্রমবর্ধমান এই বিপদের জবাবে বন্যার পানি পুরোপুরি আঘাত হানার আগেই প্রস্তুতি জোরদার করতে জরুরি আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমান এল নিনো নজিরবিহীন শক্তি অর্জন করতে পারে। ইতিমধ্যে জাতিসংঘের সাহায্য প্রধান জোর দিয়ে বলেছেন যে ভারী বৃষ্টি শুরুর আগে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সোমালিয়া, ইথিওপিয়া এবং কেনিয়ার জরুরি ত্রাণসামগ্রী প্রয়োজন।

banner
Link copied!