উত্তর ইথিওপিয়ার একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে একাধিক ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত ২৯ অক্টোবর স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
আডিস আবাবা থেকে প্রায় ৪৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হাইয়িক শহরের কাছে হাইয়িক জারি ২ তুর্ক শিবিরে এই বোমাবর্ষণ চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তিনজন গর্ভবতী নারী, আট বছর বয়সী এক শিশু ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
ইথিওপিয়ার গণমাধ্যম এডিস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শিবিরটিতে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষেরা যখন নিজেদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন, তখন অন্তত পাঁচটি ড্রোন অন্তত ১৫ মিনিট বিরতি দিয়ে হামলা চালায়। শিবিরটিতে এমন ড্রোন হামলা হতে পারে তা তারা কখনই ভাবেননি।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্রন্টলাইনস ইথিওপিয়া এই হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। অন্যান্য স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় আর্টিলারি বা গোলন্দাজ হামলাও চালানো হয়েছে।
বমাবর্ষণের পর সেখানকার ২০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে পরিবারগুলো পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং বহু শিশু তাদের স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাইয়িক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে যাদের অবস্থা গুরুতর ছিল, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেসিয়ে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হামলার শিকার এই শিবিরটিতে ১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করেন। এই মানুষগুলোর একটি বড় অংশ এর আগে ওরোমিয়া অঞ্চলের ওলেগা এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গার সহিংসতা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন।
সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে এমনিতেই খাদ্য, ওষুধ ও বাসস্থানের সংকটে জর্জরিত পরিবারগুলোর মানবিক পরিস্থিতি এই হামলায় আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে আমহারা অঞ্চলে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী এবং ফানো মিলিশিয়াদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী লড়াই চলছে। ড্রোন হামলাসহ এই এলাকার সামরিক অভিযানে প্রায়শই সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ইথিওপিয়া জুড়েই সামগ্রিক অস্থিতিশীলতার অংশ হিসেবে এই সহিংসতা ঘটছে। এর মধ্যে উত্তর তাইগ্রয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে এবং প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গেও উত্তেজনা বাড়ছে।
