আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হওয়ার পর সাব-সাহারান আফ্রিকা ও এশিয়ার এক ডজনের বেশি অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠিয়েছে স্পেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মরক্কো তাদের গ্রহণ করতে সম্মত হওয়ার পর এই দলটিকে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বর্তমানে মরক্কোর ভূখণ্ডেই আছেন।
তবে মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি। সেউতায় কর্মরত অভিবাসী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে ফেরত পাঠানো মানুষের সংখ্যা ১৬ জন এবং তারা সেনেগাল, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, ক্যামেরুন ও বাংলাদেশের নাগরিক।
বেসরকারি সংস্থাগুলো দাবি করেছে যে এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে মরক্কোয় বিদেশি নাগরিকদের প্রতি যে ধরনের আচরণের ঝুঁকি রয়েছে, তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ স্পেনের বামপন্থী সরকারের ঘোষিত মূল্যবোধের পরিপন্থী।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক ভার্জিনিয়া আলভারেজ স্পেনের অবস্থানকে দ্বিমুখী বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ইউরোপে প্রগতিশীল বক্তব্য দিলেও স্পেন সেউতা ও মেলিলিয়ার সীমান্ত অতিক্রমকারী মানুষের মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না, বিশেষ করে মরক্কো যখন অনেক মানবাধিকার রক্ষা করে না।
মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে যে তারা কোনো ধরনের বহিষ্কার বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নয়।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিবাসী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত একান্তই বিভিন্ন রাষ্ট্রের সার্বভৌম দায়িত্ব এবং কাদের বা কোথায় ফেরত পাঠানো হবে তা নির্ধারণে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। সংস্থাটি আরও যোগ করেছে যে তাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন কর্মসূচি কেবল সেই অভিবাসীদেরই সহায়তা করে যারা নিজ দেশে ফিরে জীবন পুনর্গঠন করতে ইচ্ছুক।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন মরক্কোকে একটি নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচনা করে, এই যুক্তি দিয়ে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এই পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। মুখপাত্র দাবি করেন যে প্রয়োজনীয় সব সুরক্ষা নিশ্চিত করেই এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
গত জুলাই মাসে মরক্কো থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের সেউ্টায় প্রবেশের গণ-সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনার পরেই এই বহিষ্কারের পদক্ষেপ এল। উল্লেখ্য যে সেউতা ও মেলিলিয়া হলো আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপের একমাত্র স্থলসীমান্ত।
যদিও বেশিরভাগ মানুষই কয়েক দিনের মধ্যে ফিরে গিয়েছিলেন, তবুও হাজার হাজার মানুষ এই ছিটমহলেই থেকে যান। আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংকট সমাধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং সাধারণ জনগণের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের প্রশাসনের ওপর চাপ বেড়েই চলেছে।
সেউ্টায় থেকে যাওয়া সিংহভাগ মানুষের আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াজাত করার পাশাপাশি স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ বর্তমানে আট হাজার অভিবাসীকে অভ্যর্থনা কেন্দ্রে আশ্রয় দিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা স্পেনের ন্যায়পালের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, গত আগস্ট মাস থেকে স্বেচ্ছায় ফিরে গেছেন বলে দাবি করা ১৩ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে অনেক অ-মরক্কী নাগরিককেও প্রকৃতপক্ষে জোর করে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
