মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সোমালিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার

সোমালিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু উগান্ডার: আল শাবাব দমনে বড় ধাক্কা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ২, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

সোমালিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু উগান্ডার: আল শাবাব দমনে বড় ধাক্কা

সোমালিয়া থেকে নিজেদের সামরিক সদস্যদের পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে উগান্ডা। সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে উগান্ডার প্রায় দুই দশকের নিরাপত্তা অংশগ্রহণের অবসান ঘটছে এবং উগ্রপন্থী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বহুজাতিক লড়াইয়ের একটি মূল ভিত্তি সরে যাচ্ছে।

পশ্চিমা বাহিনীর পাশাপাশি আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট আল-শাবাব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে লড়াই করে আসছে আফ্রিকান ইউনিয়নের একের পর এক মিশন। এসব অভিযান সত্ত্বেও বিদ্রোহীরা মধ্য সোমালিয়ার বিশাল এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

এই সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসার আগে দেশটিতে সহিংসতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। গত সপ্তাহে লোয়ার শাবেলে অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম মারাত্মক হামলার দায় স্বীকার করে আল-শাবাব। ওই হামলায় শত শত অভিজাত সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

আফ্রিকান ইউনিয়নের বাহিনীকে সমর্থন জোগানো একটি জাতিসংঘ লজিস্টিকস মিশনের অর্থায়ন এ বছর বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। দেশের ভেতরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং প্রকৃত অগ্রগতির অভাব নিয়ে হতাশা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নেয়।

উগান্ডা সামরিক বাহিনী এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেনা হ্রাসের কাজ শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগামী ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমালিয়ার জাতীয় সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় মোতায়েন করা সেনারা প্রথমে চলে যাবে। এরা দেশটিতে উগান্ডার মোট সেনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

পরবর্তী ধাপে আফ্রিকান ইউনিয়নের মিশনের অধীনে থাকা সেনা ইউনিটগুলো চলে যাবে। আফ্রিকান ইউনিয়নের মোট বাহিনীর প্রায় ৪০ শতাংশই উগান্ডার সদস্য।

উগান্ডা সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই প্রস্থানের মধ্য দিয়ে তাদের বিশ বছরের স্থিতিশীলতা মিশন সমাপ্ত হচ্ছে। এই রূপান্তরের উদ্দেশ্য হলো সোমালি সশস্ত্র বাহিনীকে জাতীয় নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

সাহান রিসার্চ গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সংঘাত বিশেষজ্ঞ ম্যাট ব্রাইডেন এই অবস্থান্তর নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, সোমালি ন্যাশনাল আর্মি কোনো এলাকা ধরে রাখতে বা রাজধানী রক্ষা করার মতো অবস্থানে নেই।

ব্রাইডেন আরও যোগ করেন যে পর্যবেক্ষকরা ফেডারেল সরকারের পুরোপুরি পতন এবং সম্ভবত মোগাদিশু আল-শাবাবের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করতে পারেন।

অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা বিশাল চাহিদার পাশাপাশি কিছু উপেক্ষিত অর্জনের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ওমর মাহমুদ বলেছেন, সোমালি পক্ষের অগ্রগতি সব সময় স্বীকৃতি পায় না, যদিও বাইরের পক্ষগুলোর প্রচুর বিনিয়োগ এখনো রয়েছে।

বহুপাতিক লজিস্টিকস সহায়তা কমিয়ে দিলেও ওয়াশিংটন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আল-শাবাবের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর পাশাপাশি তুরস্ক দেশটিতে বৃহৎ বিনিয়োগ, বিদেশে তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, স্যাটেলাইট স্পেসপোর্ট তৈরির পরিকল্পনা এবং অফশোর তেল অনুসন্ধান প্রকল্পের মাধ্যমে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

banner
Link copied!