যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে মানবিক সহায়তা ছাড়া অন্য সব ধরনের সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে ইরানকে কার্যকরভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। দেশটির তেল রপ্তানি ও সামরিক অর্থায়ন বন্ধের চলমান চাপের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তা কুপারের প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় এই বিবরণ উঠে এসেছে, যেখানে তিনটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মার্কিন প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করা, ডিজিটাল অর্থায়ন ব্যাহত করা এবং তেহরানের নিরাপত্তা বাহিনীর আর্থিক স্থিতিশীলতা দুর্বল করা।
কুপার বলেন, আমরা যে মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিয়েছি তা ছাড়া, ইরানের সমুদ্রপথে কোনো ধরনের রপ্তানি বা আমদানি নেই।
ওই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকমাসে মার্কিন বাহিনী কমপক্ষে ২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আকরিক তেল রপ্তানি করতে বাধা দিয়েছে ইরানের।
সামরিক বাহিনী আন্তঃসংস্থা অংশীদারদের সঙ্গে মিলে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করেছে। কুপার জানান, এই ব্যবস্থা ইরানের আঞ্চলিক কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা ধ্বংস হওয়া অস্ত্র ও কারখানা প্রতিস্থাপনের ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
কুপার দাবি করেন যে এই অঞ্চলে সক্রিয় ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পসের কাছে তহবিল পাঠানোর জন্য তাদের নিজেদের যোদ্ধাদের বেতন দেওয়া বন্ধ করে দিতে শুরু করেছে। তিনি যোগ করেন যে আইআরজিসি তাদের কর্মীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী শাসনব্যবস্থা স্পষ্টতই অর্থনৈতিক কষ্ট অনুভব করছে এবং এর ফলে আইআরজিসির মধ্যে হতাশার লক্ষণ দিন দিন বাড়ছে।
সামুদ্রিক বাণিজ্যের এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কুপার জানান যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তিনি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেন এবং জানান যে মার্কিন বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করতে আঞ্চলিক মিত্র ও শিপিং অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।
কুপার স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এটি বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
প্রদত্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে পূর্ববর্তী সাত দিনে প্রায় ৪০০টি বণিক জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে। মার্কিন বাহিনী গত সপ্তাহে উপসাগরীয় অংশীদারদের জলপথ দিয়ে ১০০ মিলিয়নের বেশি ব্যারেল আকরিক তেল পরিবহনে সহায়তা করেছে, যার ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন সহায়তায় পরিবাহিত মোট পরিমাণ ১.৩ বিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়েছে।
