গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে পরিচালিত তীব্র সামরিক অভিযানে তিন শতাধিক হুথি যোদ্ধা নিষ্ক্রিয় বা হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার এক সামরিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
ডন অব ইয়েমেন অভিযানের অংশ হিসেবে এই সামরিক পদক্ষেপগুলো পরিচালনা করা হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল হুথিদের কমান্ড সেন্টার, সৈন্য সমাবেশ, রসদ সরবরাহ পথ এবং অস্ত্রাগার।
তবে এই অভিযানে ঠিক কতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন আর কতজন আহত হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি সামরিক বাহিনী। হতাহতের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হুথি আন্দোলন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে একটি পরিত্যক্ত হোটেলের ভেতর স্থাপন করা হুথিদের কমান্ড সেন্টার, ভারী অস্ত্রশস্ত্রের অবস্থান এবং অস্ত্রাগারে সফল হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী।
সেনাবাহিনীর অভিযোগ, ওই হোটেলটিকে দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ চৌকি এবং আক্রমণাত্মক অবস্থানের জন্য ব্যবহার করছিল হুথিরা। এসব অবস্থান থেকেই মূলত পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হতো এবং শহরটি দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ রাখা হয়েছিল।
শত্রুপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং তাদের ঘাঁটি থেকে আসা গোলাবর্ষণ বন্ধ করতে বেশ কিছু কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করেছে সরকারি সেনারা। তাইজ অঞ্চলে বর্তমানে তীব্র লড়াই চলছে, যেখানে শহরের কেন্দ্রস্থলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে সরকারি বাহিনী।
এরই মধ্যে তাইজ প্রদেশের আশেপাশের গ্রামীণ ও উপকূলীয় এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণের পরিধি বাড়িয়েছে হুথিরা। ২০১৪ সালের শেষদিক থেকে এক গভীর গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত রয়েছে ইয়েমেন।
২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চল দখল করে নিলে সংঘাত চরমে পৌঁছায়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে হুথিদের হাতে। অন্যদিকে এডেনসহ দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে সরকারি বাহিনী এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা।
